বিচারের আগে আ.লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই : ঝিনাইদহে রাশেদ খাঁন

0
ছবি: সংগৃহীত।

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না মন্তব্য করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তার অপরাধকে চিরতরে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে দলটির কোনো ধরনের পুনর্বাসন বা তথাকথিত ‘রিকনসিলেশন’-র সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহ্যবাহী উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার চলমান গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার মূল নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা। একটা মানুষ এতো বোকা হতে পারে না যে, যার জন্যে আদালতে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা আছে, সে দেশে ফিরে নিজে সেই দড়িতে ঝুলবে! শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছেন আত্মরক্ষার জন্যে, বাংলাদেশে ফেরার জন্যে নয়।

তিনি যদি দল বা রাজনীতিকে সত্যি ভালোবাসতেন, তবে বলতেন ‘আমি জেলে যেতে রাজি, তাও দেশ ছাড়ব না’। যে একবার পালিয়ে গেছে, সে আর কখনো ফিরবে না।

আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইল কি চাইল না, তাতে এ দেশের ভুক্তভোগী জনগণের কিছু যায় আসে না। তাদের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এখন যারা রিকনসিলেশন বা সমঝোতার বয়ান তৈরি করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদের দোসর ও গণহত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছেন। জনগণ এই চালাকি বুঝে ফেলেছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আগে বিচার হতে হবে, এরআগে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী ও জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির অভ্যুত্থানের এক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। আসলে ক্ষমতার জন্যে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলাতেও দ্বিধা করবে না, যা ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে মনে করিয়ে দেয়। এমনকি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন জামায়াত নেতা শিশির মনীর। জুলাইয়ের উত্তাল দিনে এরা প্রোফাইল লাল পর্যন্ত করেনি। এই লজ্জা শিবির কীভাবে ঢাকবে?

সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদদের তাজা রক্ত মাড়িয়ে সারজিস ও হাসনাত আবদুল্লাহরা কীভাবে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন? তারা পারলেও আমরা শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কোনো আপস করতে পারি না।

এরআগে উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ ও কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা আক্তার।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।