ঝিনাইদহে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় দুর্ভোগে পৌরবাসী

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ প্রথম শ্রেণির মর্যাদার ঝিনাইদহ পৌরসভায় পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পুকুর, নালা ও খাল ভরাট করে একের পর এক বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে, অথচ পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করা হয়নি। ফলে অপরিকল্পিত ড্রেন পৌরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৫৮ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৪ জন চেয়ারম্যান ও মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু পরিকল্পিত ড্রেন উন্নয়নে কেউ কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেননি বলে পৌরবাসীর অভিযোগ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাড়া মহল্লা তলিয়ে যায় পানির নিচে। শহরের ছোট বড় সব খাল, পুকুর ও নালা ভরাট করে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। তাই পানি বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ড্রেন নির্মাণের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয় এমন কথাও ক্ষোভের সঙ্গে পৌরবাসীর বলতে শোনা যায়।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির ঝিনাইদহ পৌরসভার মোট আয়তন ৩২.৪২ বর্গ কিলোমটিার। ২৬টি মৌজা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ পৌরসভায় তিন লাখ পরিবার বসবাস করেন। পৌরসভার তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা গেছে, চলাচলের জন্য পৌর এলাকার বেশির ভাগ রাস্তা কাঁচা রয়েছে। সূত্রমতে ঝিনাইদহ শহরে ৭২.৩০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। অন্যদিকে কাঁচা রাস্তা আছে ৭৪.৬১ কিলোমিটার। শহরের ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, ড্রেনগুলোতে কোনো প্রবাহ নেই। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অনেক স্থানে ড্রেন ভেঙে সমান হয়ে গেছে। ফলে বাসাবাড়ির পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা ভেসে মহল্লা একাকার হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন কোনরকম পরিকল্পনা ছাড়াই পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। ফলে পৌর নাগরিকদের জলাবদ্ধতা থেকে কোন নিষ্কৃতি নেই।
পাগলাকানাই এলাকার বাসিন্দা আরিফ বিল্লাহ জানান, অগ্নিবীনা সড়ক থেকে পাগলাকানাই ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার পানি কোথায় গিয়ে পড়বে সেই ব্যবস্থা ড্রেনে রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। উপ-শহরপাড়ার বাসিন্দা আসলাম হোসেন জানান, শহরের কোরাপাড়া এলাকায় একটি খাল ছিল। পাড়া মহল্লার পানি ওই খাল দিয়ে হামদহ হয়ে বৃষ্টির পানি নবগঙ্গা নদীতে পড়তো। কিন্তু সেই খাল ভরাট করে বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে। ফলে কোর্টপাড়া, পাগলাকানাই, ব্যাপারীপাড়া, উপ-শহরপাড়া, হামদহ, ট্রাক টার্মিনালপাড়া ও কোরাপাড়ার পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।
ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন জানান, ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় এলজিএসপি ও পাবলিক হেলথ এর দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্রধান আরসিসি ড্রেন তৈরি হলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ২৫ শহর প্রকল্পের আওতায় ছোট বড় ১৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শহরে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে নির্বাহী প্রকৌশলী মনে করেন।