ঝিনাইদহে ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার ফারুকুুজ্জামান ফরিদ ও তার গাড়িচালক শাহীনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণের শিকার নারী (৩৪) নিজে ঝিনাইদহ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এর আগে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই নারীর দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, বিচার চাইতে গিয়ে চেয়ারম্যান ফরিদের লালসার শিকার হয়ে তিনি ধর্ষিত হন। তিনি তার দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে হরিশংকরপুর গ্রামের নরহরিদ্রা গ্রামে চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফরিদের নিজ বাড়িতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন কয়েক মাস আগে শহরতলীর কোরাপাড়া বটতলার আমির হোসেনের ছেলে মহসিনের সাথে তার বিয়ে হয়। কয়েক মাস স্বামী-স্ত্রীর হিসেবে বসবাস করলেও পরে বিয়ে অস্বীকার করেন মহসিন। বিষয়টি সমাধানের জন্য এক পর্যায়ে ওই নারী তার পূর্ব পরিচিত চেয়ারম্যান ফরিদের সাথে আলাপ করেন। পরে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে চেয়ারম্যান ফরিদ তাকে ১৫ এপ্রিল বিকেলে সদর উপজেলার নরহরিদ্রা গ্রামে তার বাড়িতে ডেকে নেন। বিকেলে তিনি ফরিদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে দোতলার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নেশাজাতীয় কিছু সেবন করিয়ে ফরিদ ও তার গাড়িচালক শাহীন দুজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। অভিযোগে ওই নারী আরো উল্লেখ করেছেন, চেয়ারম্যান তাকে ধর্ষণ ছাড়াও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ধর্ষণের পর চেয়ারম্যান ফরিদ এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য নিষেধ করেন। ধর্ষণ শেষে ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চেয়ারম্যানের গাড়িচালক শাহীন তাকে মোটরসাইকেলে করে বিজয়পুর বাজারে রেখে যান। পরদিন ১৬ এপ্রিল শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই নারী ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ওসি শেখ মোহম্মদ সোহেল রানা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ তদন্ত ও ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফরিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে মামলা হওয়ার আগে চেয়ারম্যান ফরিদ ফেসবুকে ধর্ষিতার ভিডিও বক্তব্য শুনে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছিলেন, বিষয়টি তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি আরো বলেন, ওই নারী তার কাছে বিচারের জন্য এসেছিলেন, কিন্তু যখন তিনি আসেন তখন তার কাছে অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সবাই দেখেছেন ওই নারী তার কাছে আসার কিছুক্ষণ পরে চলে গেছেন। এর কোন সত্যতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।