ঝিনাইদহের ৫ যুবককে কম্বোডিয়ায় বিক্রির অভিযোগ পরিবারের

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহের ৫ ব্যক্তিকে বিদেশে ভাল চাকরি দেওয়ার কথা বলে কম্বোডিয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এক সংবাদ সম্মেলনে।

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন হালিমা খাতুন নামে এক নারী। তার ছেলে শাহীনকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম্বোডিয়ায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মোট ৮ যুবককে চক্রটি প্রতিশ্রুত দেশে না পাঠিয়ে কম্বোডিয়া পাঠিয়ে দেওয়ার সময় এর ভেতর থেকে ৩জন পালিয়ে আসেন।

আদম ব্যবসায়ী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ঝিনাইদহে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। আর্থিক সংগতি হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে কষ্ট আর শোকের মাতম। আদাম পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও তারা রয়েছে বহাল তবিয়তে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দালালরা সব কিছু ম্যানেজ করছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারীদহ গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আলতাফ হোসেনের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে ফজলুল করিম ফয়জুল, তার ছেলে ফয়সাল আহমেদ, স্ত্রী জাহানারা খাতুন ও পুত্রবধূ তারানা হক রথী (২০) বিদেশ পাঠানোর নামে এলাকার বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও ঠকবাজির মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হালিমা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলে শাহীন ছাড়াও নাথকুন্ডু গ্রামের মো. আকরাম আলী, একই গ্রামের সিফাতুল্লা, হলিধানী গ্রামের মো. রাহুল আহমেদ, প্রতাপুপর গ্রামের রানা মিয়া, সদর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সবুজ, ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কলাবাগানপাড়ার নাজিব ও বেড়াদি গ্রামের আব্দুল গাফ্ফারের কাছ থেকে মাথাপ্রতি ৭ লাখ টাকা করে মোট ৫৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। এরমধ্যে সবুজ, নাজিব ও আব্দুল গাফ্ফার নেপাল বিমান বন্দর থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

প্রতারণার শিকার নাজিব ও সবুজ নামে দুই যুবক জানান, থাইল্যান্ডে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার জন্যে ফজলুল করিম ফয়জুলসহ কয়েকজন তাদের প্রলুদ্ধ করেন। তাদের কথা বিশ্বাস করে ঝিনাইদহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জনপ্রতি সাত লাখ টাকা করে দেন।

টাকা নেওয়ার পর তাদের থাইল্যান্ডে না পাঠিয়ে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম্প কোম্পানিতে ১৮ ঘন্টা শ্রমের চুক্তিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে সেখানে তারা কষ্টে আছেন। মাসে মাস কোন টাকা টাকা পাঠাতে পারছেন না।

তাই ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করাও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা এখন তারা জীবন নিয়ে ফিরতে পারবেন কি-না তা নিয়ে পরিবার শংকা প্রকাশ করেছে।