ঝিকরগাছায় বিশ্বাস ব্রিক্সের নাম পরিবর্তন ও দখলের ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের ঝিকরগাছায় পল্লীতে বিশ^াস ব্রিক্সের নাম পরিবর্তণ করে দখলের ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিকরগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই তারেক মোহাম্মদ নাহিয়ান ঘটনাস্থালে গিয়ে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নিশেধাজ্ঞা জারি করেন। সরেজমিনে ঝিকরগাছা উপজেলার ইস্তা গ্রামে বিশ^াস ব্রিক্সে গিয়ে দেখাগেছে, সেখানে গত বছরে পোড়ানো কয়েকলাখ ইটের গায়ে বিশ^াস ব্রিক্স লেখা রয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে ইটের মৌসুম শুরু করারপূর্বে ফিরোজ বিশ^াসের ব্যবসায়িক পাটনার আল মামুন রাজা প্রতারনা করে বিশ^াস ব্রিক্সের পরিবর্তে রাজা ব্রিক্স নামে ইটকাটা শুরু করেন। অত:পর ইটভাটার চিমনি, সাইনবোর্ডেও রাজা ব্রিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ^াস ব্রিক্সের প্রোপাইটর ফিরোজ বিশ^াস স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ঝিকরগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু আল-মামুন রাজা কারোর কথা কর্ণপাত না করায় ফিরোজ বিশ^াস যশোর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদাললে একটি মামলা করেন। যার নং-১২১৭/২১, স্বারক নং-২৩৯০, তাং-০১/১২/২০২১ ইং। মামলায় স্থানীয় আইনশৃংখলা বজায় রাখাসহ ইটভাটাটি যেখানে যে অবস্থায় আছে তার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। যার কপি পেয়ে মঙ্গলবার ঝিকরগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই তারেক মোহাম্মদ নাহিয়ান ইটভাটায় গিয়ে নিশেধাজ্ঞা জারি করে উভয় পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। এসময় বিশ^াস ব্রিক্সের প্রোপাইটর পাশ^বর্তী মনিরামপুর উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বিশ^াসের পুত্র ফিরোজ বিশ^াস জাানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তিনি ও ইস্তা গ্রামের মৃত-সিরাজুল ইসলামের ছেলে আল-মামুন রাজা যৌথ মালিকানায় ইস্তা গ্রামে বিশ^াস ব্রিক্সের কার্যক্রম শুরু করেন। যা গত ৪ বছর ধরে চলে আসছে। কিন্তু আল মামুন রাজা স্থানীয় হওয়ায় গতবছর থেকে ফিরোজ বিশ^াসকে উচ্ছেদ করে একাই ইটভাটা চালানোর পায়তারা করে আসছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইটভাটার চিমনি, সাইনবোর্ডে বিশ^াস ব্রিক্সের পরিবর্তে কাঁচা ইটে রাজা ব্রিক্স নাম ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখিত ইটভাটায় ফিরোজ বিশ^াসের প্রায় ৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসময় ইটভাটায় আল মামুন রাজাকে দেখা না গেলেও তার ছোটভাই মাসুদুর রহমান নয়ন বলেন, যৌথ মালিকানা নিয়ে নিজেদের মধ্যে সামান্য বিরোধ হয়েছে। যা অচিরেই মিটে যাবে। ইতিমধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা বাক বিতান্ডের ঘটনা ঘটেছে, দ্রুত মিমাংসা না হলে ইটভাকাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসি। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সোনাকুড় গ্রামের শাহিনুর কবিরসহ অনেকে।