ঝালকাঠিতে রথযাত্রার ফাঁকে তিনতলা ভবনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নারীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা

0
নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ মলিনা রায়ের ঘরের ভেতরের তছনছ করা আসবাবপত্র ও আলমারি।। ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠি শহরের একটি তিনতলা ভবনে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা মলিনা রায় (৫০) নামের এক নারীকে হাত-পা বেঁধে ও মাথায় বস্তা পেঁচিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পৌর শহরের টিঅ্যান্ডটি এলাকার তপন হালদারের তিনতলা ভবনে এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় মলিনা রায় তাঁর মেয়ে পূজা রায়কে নিয়ে এই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে ওই ভবনের মালিক ও অন্যান্য বাসিন্দারা কৃত্তিপাশা–ভিমরুলী এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রায় অংশ নিতে যান। সে সময় পুরো ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে শুধু মলিনা রায় একাই বাসায় ছিলেন।

রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা উৎসব শেষে ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান।

একই সময়ে মলিনার মেয়ে পূজা রায় তাঁদের বাসার দরজা খোলা এবং ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকেন। সেখানে তিনি তাঁর মাকে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মলিনা রায়কে মৃত ঘোষণা করেন।

ভবনের মালিক তপন হালদার ও তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল জানান, রথযাত্রা থেকে ফিরে তাঁরা পুরো ভবনের সব বাসার তালা ভাঙা এবং ঘরের ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র ও টাকাপয়সা লুট হওয়ার দৃশ্য দেখতে পান।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ফাঁকা ভবনে প্রবেশ করে বাধা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করেছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান জানান, মরদেহ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ নির্ধারণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।