জুনেও শেষ হচ্ছে না ভৈরব নদের খননকাজ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে আবারও আবেদন

0

আকরামুজ্জামান ॥ তৃতীয় দফার পর আবারও বাড়ানো হচ্ছে ভৈরব নদ খনন প্রকল্পের মেয়াদ। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এ মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২০ সালের জুন মাসে। তবে ঠিকাদারসহ নানা সমস্যার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা বৃদ্ধি করার পর সর্বশেষ চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও শেষমেষ তা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে খননকাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের পক্ষ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে।
২৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুল প্রত্যাশিত যশোরের ভৈরব নদের যশোর অংশের ৯৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৭৫ কিলোমিটার খননকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ১০ কিলোমিটার অংশেরও অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে নদ খননকাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী ছিলো পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে, শেষ পর্যন্ত হতাশার কথায় জানালেন খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও আমরা আশঙ্কা করছি তা সম্ভব হবে না। কারণ এ বছর অনেক আগে থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। প্রায় প্রতি মাসেই এক থেকে দুই দফা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে নদের শহরাংশসহ বাকি অংশের খননকাজে সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ঠিকাদার জটিলতার কারণে নদের শহরাংশের খননকাজ শুরু করতে বিলম্ব করেছি। তবে শেষমেষ ঠিকাদার পেয়েই খননকাজ শুরু করি। নদের পানি শুকিয়ে খননকাজ চলমান আছে। তবে সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের কারণে খননকাজে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি সামনে ভারী বৃষ্টিপাতেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে পারবো না এমনটা আশঙ্কার বিষয় উর্ধ্বতন মহলে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছি। তবে এখনও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে তিনি জানান।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে যশোরের গণমানুষের দাবির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকা জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে ভৈরব খননকাজের এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। নদের যশোর অংশের ৯৬ কিলোমিটার খননকাজে ৩১টি প্যাকেজে বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। খননকাজের ব্যয় ধরা হয় ২৭৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে ভৈরব নদের শতভাগ খননকাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারসহ নানা জটিলতার অজুহাতে খননকাজ ৩ দফা থমকে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, নদের শহর অংশের ১০ কিলোমিটার খননকাজে ঠিকাদার জটিলতার কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। অবশেষে ২০২১ সালে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে চলতি বছরের ২০২২ এর জুন মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
গত এক মাস আগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর অংশের খননকাজও চলে পুরোদমে। এর আগে আগামী জুন মাসের মধ্যে শতভাগ খননকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করে পানিউন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষমেষ তা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভৈরব খননের মতো একটি মেগাপ্রকল্পের বার বার মেয়াদ বৃদ্ধি ও খননকাজের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে ভৈরব নদ খনন আন্দোলনের সাথে যুক্ত নেতাদের মধ্যে। এ বিষয়ে ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও খননকাজের দীর্ঘ ধীরগতির কারণে নদের নাব্যতা ফিরে পাওয়া অনিশ্চয়তা হয়ে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ খননের কারণে পাড়ের মাটি নদে পড়ছে যেমন, তেমনি পলি পড়ে পুনরায় নদ ভরাট হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের যেমন অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি আমরা যশোরবাসী বঞ্চিত হচ্ছি নদী খননের সুফল থেকে। এ বিষয়ে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ভৈরবের কার্যকর খনন করার দাবি জানান।