জীবননগরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

0
ছবি: সংগৃহীত।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ॥ দীর্ঘ আড়াই বছর পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়ার আঁখি প্রিক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম জনাকীর্ণ আদালতে একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ফটিককে মৃত্যুদন্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানার দন্ডাদেশ দেন।

এরপর আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ দন্ডাদেশ দেন বিচারক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১০) ও আছিয়া খাতুন (৮) প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) ও সিনহা খাতুনকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসেন। তিনি মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে তাকে তার সঙ্গে ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যান ও তাদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পর লোকটি একা ফিরে আসেন।

তার কাছে মরিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। এ কথা শুনে, সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেতে মরিয়মের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের পিতা ইকবাল হোসেন অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম এই মামলার তদন্ত শেষে জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলা চলাকালীন আসামি আবুল হোসেন ফটিক চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে।

গত ১৫ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। চার্জশিট ও ডিএনএ রিপোর্টসহ নানা তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালতের বিচারক এ দন্ডাদেশ দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী এমএম শাহজাহান মুকুল। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ওহিদুজ্জামান মুকুল।