‘জিনের নির্দেশ’ দাবিতে দাফনের ৭ ঘণ্টা পর কবর খুঁড়ে তোলা হলো মরদেহ

0
জামালপুরের মেলান্দহে 'জিনের নির্দেশ' ও জীবিত থাকার দাবিতে দাফনের সাত ঘণ্টা পর কবর খুঁড়ে তোলা হয় হালিমা খাতুন নামে এক নারীর মরদেহ।। হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজি করে আবারও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকেরা।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ‘কবরে জীবিত আছেন’—এমন অলৌকিক ও অবাস্তব দাবি করে দাফনের প্রায় সাত ঘণ্টা পর কবর খুঁড়ে এক নারীর মরদেহ তুলেছেন স্বজনেরা। তবে পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর ও অদ্ভূত এই ঘটনাটি ঘটে।

মৃত্যু হওয়া ওই নারীর নাম হালিমা খাতুন (৫৫)। তিনি নয়াপাড়া এলাকার সোহরাব আকন্দের স্ত্রী। গতকাল শনিবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করলে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দাফনের পর রাত আনুমানিক নয়টার দিকে হালিমার এক মেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে দাবি করতে থাকেন যে, ‘জিন’ তাঁকে বার্তা দিয়েছে এবং বলেছে তাঁর মা কবরে এখনো বেঁচে আছেন। এই কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা মধ্যরাতে কবর খুঁড়ে হালিমা খাতুনের মরদেহ বের করে নিয়ে আসেন।

মরদেহটি বের করার পর রাত সাড়ে বারোটার দিকে প্রথমে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মেলান্দহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তাঁকে জামালপুর পৌর শহরের অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ইসিজি করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে ওই নারী অনেক আগেই মারা গেছেন।

চিকিৎসকদের নিশ্চিত বার্তার পর স্বজনেরা মরদেহটি আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং একই রাতে আগের নির্ধারিত কবরেই আবার দাফন করেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, ‘দাফনের পর কবরে জীবিত থাকা’ সংক্রান্ত অবাস্তব দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ঘিরে নানামুখী গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী মৃত নারীর মেয়ে জিনের আছরের কথা বলে এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবি তুলেছিলেন। এটি পুরোপুরি একটি গুজব এবং কবরে অলৌকিকভাবে জীবিত থাকার কোনো সত্যতা মেলেনি।