ছোট হয়ে গেছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসিইউ

0

 

বিএম আসাদ ॥ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১১ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ-এর কলেবর কমছে। চিকিৎসার উপকরণ (যন্ত্রপাতি) নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ৫টি শয্যা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৬টি শয্যা দিয়ে কোনমতে চলছে আইসিইউ। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে পরিসর ঠিক রাখার চেষ্টা চলছে।
ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটের সংক্ষিপ্ত রূপ আইসিইউ। বাংলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি দেখা দেয়ার পর ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে যশোর স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পরিষদ, দানশীল ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোগে ১০টি বেড নিয়ে হাসপাতালের ২য় তলায় স্থাপিত করা হয় আইসিইউ। তখন এটি ছিল মহিলা অর্থো-সার্জারি ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে আরো একটি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়। শয্যা সংখ্যা হয় ১১। তবে সে সময় আইসিইউ ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে বেসরকারি স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন’। তাদের মাধ্যমে পুর্নরূপে আইসিইউতে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলে। এটি দীর্ঘদিন চালু রাখার স্বার্থে সাজেদা ফাউন্ডেশন পোর্র্টেবল এক্স-রে মেশিনসহ সকল যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে প্রদান করে। তখন থেকে যাত্রা শুরু হয় আইসিইউ ইউনিটের। সেই থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসিইউ সচল থাকলেও কিছু কিছু যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে যশোর হাসপাতালের আইসিইউ ধীরে ধীরে পরিসর ছোট হয়ে আসছে। ১১ বেডের বিপরীতে আইসিইউ বিভাগে বর্তমানে সচল রয়েছে ৬টি বেড। বাকি ৫টি বেড ভাল থাকলেও মনিটর ও পালস অক্সিমিটারের অভাবে অতি স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ বেডগুলো পড়ে রয়েছে। ওই ৫টি বেড সবসময় খালি থাকছেন চিকিৎসার যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে। এতে করে আইসিইউটির অর্ধেক সচল রয়েছে। অন্য দিকে প্রায় অর্ধেক অচল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘ এক বছর ধরে। এর পাশাপাশি ৩টি এইচডিইউও ৫টি পোস্ট অপারেটিভ বেড চালু রাখা হয়েছে।
তথ্যাসন্ধানে জানা গেছে, নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১টি ইসিজি মেশিন, ১০টি ন্যাসেন্ট মনিটর, ৬টি অক্সিজেন বাইপাপ মেশিন, ২টি সিরিঞ্জ পাম্প, অক্সিমিটার ও ১টি মনিটর। এসব মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৫টি আইসিইউ বেড চালু করা যাচ্ছে না। ফলে মুমূর্ষু রোগীর ভীড় থাকলেও নির্ধারিত ৬টি সচল বেড ছাড়া অন্য বেডে রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না আইসিইউ বিভাগে। এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের মরণাপন্ন রোগীর চিকিৎসা নিয়ে চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন। যা আইসিইউ বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের কর্মকর্তা যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এইচএম আহসান হাবিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, অনেক মেশিনপত্র খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে ৫টি বেডে রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ইঞ্জিনিয়ার এসেছে। নষ্ট যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছে। তাতে কয়েকটি মেশিন মেরামতের পর ভাল হতে পারে। এছাড়া একটি নতুন ডায়াথার্মি মেশিন ও ৫টি পালস অক্সিমিটার কেনা হয়েছে। এতে করে পড়ে থাকা ৫টি বেডে অচিরেই রোগীর চিকিৎসা দেয়া যাবে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন-অর-রশীদও একই তথ্য জানিয়েছেন।