ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, যশোর এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঐতিহ্যবাহী মধুসূদন তারাপ্রসন্ন (এমএসটিপি) বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। এ ঘটনায় ক্ষোভের মুখে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, শিমুল মণ্ডল পরিচালিত কোচিং সেন্টারে না পড়ায় তাদের মেয়েকে স্কুল ছুটির পর আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে তার শরীরে আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন সৃষ্টি হয় বলে তারা দাবি করেন। ভয়ভীতি দেখানোর কারণে কয়েক দিন বিষয়টি গোপন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য এবং প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা করে শিট বিক্রির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। এ ছাড়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও শারীরিকভাবে হয়রানির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের পর থেকে শিক্ষক শিমুল মণ্ডল পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারজানা করিম ও সহকারী শিক্ষিকা সুমি খাতুন জানান, তারা ওই ছাত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. খায়রুল আনাম বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমএসটিপির সভাপতি, যশোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’