চড়াদামের হাইব্রিড বীজ ধানে অঙ্কুরোদ্গম না হওয়া বিপাকে বাগেরহাটের কৃষক

0

আলী আকবর টুটুল,বাগেরহাট॥ বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় বোরো মৌসুমে হাইব্রিড বীজ ধানে অঙ্কুরোদগম হয়নি। অধিক ফলনের আশায় চড়া দামে কোম্পানির বীজ কিনে অঙ্কুরোদগম না হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। ধানের চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরি করে বীজ বুনতে না পেরে হতাশা বিরাজ করছে প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে। তবে বিভিন্ন কোম্পানির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট না হয়ে সরকারি বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯ উপজেলায় এবছর প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হবে। এর মধ্যে ৪২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও অবশিষ্ট জমিতে চাষ হবে উচ্চ ফলনশীল উপশী ধান। এর জন্য প্রায় ৬শ টন হাইব্রিড ও ২শ ৫০ টন উফশী ধান বীজের চাহিদা রয়েছে। এই মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রকল্প ও রাজস্ব খাত থেকে ৩০ টন হাইব্রিড ধানের বীজ ও ১০ টন উফশী ধানের বীজ বিতরণ করা হবে প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত বীজ দিয়ে অবশিষ্ট চাহিদা মেটাবেন চাষিরা। ব্রাক, সিনজেনটা, পার্টেক্স, এসিআইসহ বিভিন্ন নামে ১০টির বেশি কোম্পানি হাইব্র্রিড ধান বীজ বিক্রয় করে। এসব বীজ কোম্পানি ভেদে প্যাকেট প্রতি ২শ ৫০ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু গত দুই বছর ধরে বাজারের বিভিন্ন হাইব্রিড ধানের বীজে অঙ্কুরোধ গম না হওয়ায় ফলন ব্যহত হচ্ছে বলে দাবি চাষিদের।
এদিকে বীজ উৎপাদন, সংরণ ও বিপণনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি-বীজ)এর বীজের দাম অপোকৃত কম ও মান ভাল হওয়া সত্বেও শুধু প্রচারণার অভাবে চাষিরা বেসরকারি বানিজ্যিক কোম্পানির বীজের উপর নির্ভর করছেন।৫ শ টনের উপরে হাইব্রিড বীজের চাহিদার বিপরীতে বিএডিসি-বীজ, বাগেরহাট কার্যালয় মাত্র ১শ কেজি হাইব্রিড ও ১ হাজার ৫ শ কেজি উফশী ধানের বীজ বিক্রয় করতে পেরেছেন। হাইব্রিড ধানের বীজে অঙ্কুরোদগম না হওয়া কুচয়া উপজেলার চাষি শেখ রুস্তম আলী বলেন, জমির জন্য বিভিন্ন কোম্পানির ১৫ কেজি ধান ক্রয় করেছিলাম। এর মধ্যে ১২ কেজি ধানে অঙ্কুরোদগম হলেও ২৯০ টাকা করে কেনা সিনজেন্টা কোম্পানির ৩ কেজি ধান একদম নষ্ট হয়ে গেছে। কোন অঙ্কুরোদগম হয়নি।
রুস্তমের প্রতিবেশী আবুল হোসেন জানান, রাজলীভান্ডারের ধান কিনেছিলাম, অঙ্কুরোধ গম হয়নি। আবার নতুন করে ধান কিনেছি। আসলে কি করব, এত দামের ধান যখন নষ্ট হয়, তখন আমাদের কিছু করার থাকে না। একই উপজেলার জামাল শেখ বলেন, ব্রাকের (হাইব্রিড-৪৪৪) ধান কিনেছিলাম বীজ হজায়নি। এত টাকা দিয়ে ধান কিনতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। কিন্তু বীজ না হলেও আরও বিপদে পড়তে হয় আমাদের। এসিআই কোম্পানির (এসিআই-১) ধান কিনেছিলেন মোজাফফর মোল্লা নামের এক চাষি। তার ধানেও অঙ্কুরোদগম হয়নি। এখন নতুন করে কি ধান কিনবেন এই নিয়ে আছেন শঙ্কায়। শুধু এরা নয় বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার চাষিদের কাছ থেকে হাইব্রিড বীজ ধানে অঙ্কুরোদগম না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সরকারি ভাবে বিতরণকৃত বীজের প্রাপ্যতা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে চাষিদের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পছন্দের মানুষ না হলে সরকারি সার-বীজ পাওয়া যায়না এমন অভিযোগ করেছেন চাষিরা।
বিএডিসি-বীজ, বাগেরহাট কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিসেস আকলিমা খাতুন বলেন, আমরা দুই ধরণের হাইব্রিড বীজ বিক্রি করি। সরকার নির্ধারিত ২শ ২৫ টাকা দরে আমরা ধান বীজ বিক্রি করছি। কিন্তু অনেক কৃষকরা না জানার কারণের আমাদের এখান থেকে ক্রয় করে না। সার-বীজ কমিটির মিটিংয়েও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই বোরো মৌসুমে আমাদের গুদামে পর্যাপ্ত বীজ রয়েছে। চাষিরা চাইলে আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বীজ সরবরাহ করতে পারব।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, সিনজেন্টা কোম্পানির একটি ব্রান্ডের বীজে অঙ্কুরোদগম না হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি ওই প্রতিষ্ঠানকে জানালে তারা ওই ব্রান্ডের বীজ বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। তিগ্রস্থ চাষিদের পুনরায় বীজ দেওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া কোন কোম্পানির বীজে যদি অঙ্কুরোদগম না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, সেগুলো যাতে বাজারজাত না হতে পারে সেই অনুাযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএডিসির বীজের দাম অপোকৃত কম এবং ফলনও ভাল। চাষিরা বিএডিসির বীজ ব্যবহার করলে উপকৃত হবে।