চৌগাছা তরিকুল ইসলাম কলেজের নাম মুছে দিতে ষড়যন্ত্র করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর পিএস অমিত বসু

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার বহুল আলোচিত অমিত কুমার বসু। তিনি ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের একান্ত সচিব। অবৈধভাবে কাড়িকাড়ি টাকা কামিয়ে এই নেতা এখন আত্মগোপনে। চৌগাছা তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের নাম মুছে ফেলাসহ কলেজটি নিয়ে তিনি চালান গভীর ষড়যন্ত্র। তদবির করে অনেক বিতর্কিত ছাত্রলীগ যুবলীগের ক্যাডারদের দিয়েছেন চাকরি। শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর তার কোন খবর নেই।
চৌগাছা পৌর এলাকার হিন্দুপাড়া মহল্লার বাসিন্দা অমিত কুমার বসু। পিতার নাম অসিত কুমার বসু। পিতা অসিত কুমার বসু মন্দির দেখাশোনা ও হিন্দুদের বাড়ি থেকে চাল টাকা সংগ্রহ করে সংসার চালাতেন। অভাবের তাড়নায় অমিত এইচএসসি পাস করে পাড়ি জমান চট্টগ্রামে। সেখানে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মরহুম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হয়ে রাজনীতি শুরু করেন। হয়ে ওঠেন মহিউদ্দিনের কাছের মানুষ। তার মৃত্যুর পর মহিউদ্দিনের ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের প্রিয় মানুষ হয়ে যান। নওফেল এমপি থেকে মন্ত্রী হন। আর অমিত কুমার বসু হন তার একান্ত সচিব। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
শিক্ষা মন্ত্রীর পিএস হওয়ার পর প্রথমেই চৌগাছা তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজে হাত দেন। সচিবলায় থেকে শুরু করে সে সময়ের যশোর শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসক এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চাপে রেখে মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত চৌগাছার এই কলেজের নাম মুছে ফেলার প্রবল চেষ্টা চালাতে থাকেন। তার চাপের মুখে তুরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের অধ্যক্ষ মনজুরুল আলম লিটু হয়ে পড়েন দিশেহারা। অধ্যক্ষ যশোর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সাথে যোগাযোগ রাখেন।
অধ্যক্ষ মনজুরুল আলম লিটু জানান, অমিত শুধু কলেজের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেই থেমে থাকেননি। আমার কলেজের এমপিও বন্ধের চেষ্টা চালান। বিভাগ অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমিয়ে দেন। এমনকি চারতলা ভবনের বরাদ্দ কেটে দেন। অনেক চেষ্টার পর একতলা একটি ভবন পেয়েছি। তার ষড়যন্ত্রের কারণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।