আর্জেন্টিনাকে ভুল শুধরে নিতে বললেন মেসি

0
কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও নিজেদের ঘাটতি নিয়ে অসন্তুষ্ট লিওনেল মেসি।। ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ৩২-এর অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও স্নায়ুচাপের ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে নাটকীয় এই জয়ের পরও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠ ছাড়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও প্রতিপক্ষের লড়াকু ফুটবলকে যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনই নিজেদের খেলার ঘাটতি ও ভুলগুলো পরবর্তী রাউন্ডের আগেই সতীর্থদের শুধরে নেওয়ার তাগাদাও দিয়েছেন তিনি।

মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। ম্যাচে দুবার এগিয়ে গিয়েও কেপ ভার্দের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে বারবার খেই হারায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে আরও ৩টি গোল হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের একটি আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

ম্যাচ শেষে দলের অসংগতি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসি। তিনি বলেন, “আমরা জানতাম ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে এই দলটা তো আর এমনি এমনি অপরাজিত থাকেনি। আমরা সবচেয়ে কঠিন কাজটা করেছিলাম, যেটা ছিল ম্যাচের প্রথম গোলটি করা। ভেবেছিলাম প্রথম গোলের পর চাপমুক্ত হয়ে চেনা ছন্দে ফিরব, কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টোটা। আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ি এবং ওদের ওপর ঠিকঠাক চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি।”

মাঝমাঠ ও রক্ষণের দুর্বলতার ব্যাখ্যা দিয়ে মেসি বলেন, “আজ আমাদের রক্ষণের সঙ্গে মাঝমাঠের দূরত্ব কিছুটা বেশি ছিল। ওদের খেলোয়াড়দের গতি ও প্রেসিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে না পারায় ওদের একজন বাড়তি খেলোয়াড় সব সময় ফাঁকায় থেকেছে। এ কারণেই ওরা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আমাদের খাটিয়েছে। আমরা ইতিবাচক কিছু কাজ করলেও আমাদের ঘাটতি বা ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে, যা আজ অনেক বেশি ছিল। এটা নকআউট পর্বের টুর্নামেন্ট, এখানে কেউ আপনাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।”

দলের ঘাটতি থাকলেও ব্যক্তিগত অর্জনে এই ম্যাচেই ইতিহাস নতুন করে লিখেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে দারুণ একটি গোল করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭-এ, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। একই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে ন্যূনতম ৭টি করে গোল এবং প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন তিনি।