আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই জমে উঠেছে চৌগাছার পীর বলুহ মেলা

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ মেলা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে মেলার সব জায়গা ভরে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী দোকান পাটে। মেলা পরিচালনায় গঠন হয়েছে ১৬ সদস্যের কমিটি, শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে রাখা হয়েছে প্রস্তুত।

পীর বলুহ মেলা প্রতি বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয়। অন্য বছরগুলোর মতো এবছরও তার কোনই ব্যাপ্তি ঘটেনি। আনুষ্ঠানিক শুরু মঙ্গলবার হলেও অন্তত এক সপ্তাহ ধরে অঘোষিত ভাবে মেলা শুরু হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে সব ধরনের ব্যবসায়ীর সরব উপস্থিতিতে মেলা যেন মিলন মেলায় রুপ নিয়েছে। তবে বলুহ মেলার প্রধান ও প্রথম আকর্ষণ হচ্ছে কাঠের তৈরি আসবাবপত্র ও শিশু খেলনা। এ সবই নিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশ আগেই এসেছেন, শুরু হয়েছে বেচা কেনা।

সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হাজরাখানা গ্রামের মেলা অংশে কোনো জমি খালি নেই। সব জায়গায় বসেছে দোকান আর শিশুদের বিনোদনের জিনিসপত্র। এ সময় কথা হয় মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে আসা ব্যবসায়ী রহমত আলী, আব্দুল্লাহ, আব্দুল গনির সাথে।

তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা মেলাতে আমরা আসি এবং সকলের দোয়ায় খুব ভালো ব্যবসা করে বাড়িতে যাই।

এবছরও মেলায় কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা হবে বলে মনে করছেন তারা। নড়াইল জেলা হতে এসেছেন একাধিক মিষ্টি ব্যবসায়ী। প্রত্যেক দোকানে ১০ থেকে ১৫ প্রকার মিষ্টি সাজিয়ে তারা বসে আছেন।

দেবাশিষ কুণ্ডু বলেন, অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে মেলাতে আসি। খুবই প্রাণবন্ত বলুহ মেলা। আমরা চার পাঁচদিন আগে এসেছি শুরু হয়েছে বেচাকেনা।

চটপটি ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, মেলাতে এবছর যেন দর্শনার্থীর ভিড় বেশি। এখনো শুরু হয়নি মেলা তবে মানুষের চলাচল খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৌগাছার বলুহ মেলাতে রাজধানী ঢাকাসহ বগুড়া, ময়মনসিংহ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা হতে নানা ধরনের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করার উদ্যেশে হাজির হয়েছেন।

মেলা যে কয়দিন চলে তাতে প্রত্যেক ব্যবসায়ী রমরমা ব্যবসা করে ফেরেন নিজ নিজ এলাকাতে।

বলুহ মেলা উপলক্ষে চৌগাছা উপজেলা সদরসহ এ অঞ্চলে সাজসাজ রব পড়ে গেছে। মূল স্থল উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে যেন বয়ে যাচ্ছে ঈদের আনন্দ। গ্রামের বিল্লাল হোসেন, আজিজুর রহমান, আব্দুর রহমান, মিন্টুসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বলুহ মেলা মিলন মেলায় পরিণত হয়, যুগযুগ ধরে একই ভাবে চলে আসছে।

সম্পূর্ণ গ্রামীণ এই মেলায় এতো দর্শনার্থী এতো বেচাকেনা আর কোনো মেলায় হয় কিনা জানি না। মেলা শুরুর আগে থেকেই গ্রামের সব বাড়িতে আত্মীয় স্বজন আসতে শুরু করেছে এবং যে কয়দিন মেলা চলে সে কয়দিন আমরা গ্রামাবাসী বেশ ব্যস্ত থাকি।