চৌগাছায় প্রতিপক্ষের দ্বারা ইউপি সদস্য খুন

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)॥ চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ঠান্ডু বিশ্বাস উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বর। হামলায় কমপক্ষে আরো ৬ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সন্ধা ৬ টায় পাতিবিলা বাজারে। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এলাকাবাসি জানান, গত সোমবার সন্ধায় প্রতিদিনের মত বাজারে চা খেতে আসেন নির্বাচিত ইউপি সদস্য ঠান্ডু বিশ্বাস। এ সময় তার সাতে আরো ১০/১২ জন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আকস্মিকভাবে সাবেক মেম্বর রুহুল আমিনের নেতৃত্বে টিটো, শরিফ হোসেন, ফারুক হোসেন, সেলিম, কামাল হোসেনসহ ৩০/৪০ জন বাঁশের লাটি, বেলচা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার প্রতিপক্ষের ছুরিকাহতে ইউপি সদস্য ঠান্ডু বিশ্বাস মারাত্বক আহত হন। একই সাথে হামলায় আহত হন পাতিবিলা গ্রামের টিটো হোসেন (৩২), সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক (৫০), আব্দুল হামিদ (৪৫), মকবুল হোসেন (৩৫), অসিম কুমার ঘোষ (৩৫), মমিনুর রহমান মমিন (৪৫) সহ৭/৮ জন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে ইউপি সদস্য ঠান্ডু বিশ্বাসের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার পেটে ছুরির আঘাতে নাড়ীভুড়ি বের হয়ে যায়। অতিরিক্তি রক্ষক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক জানান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে টিংকু বিশ্বাস বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন। এলাকাবাসি জানানা, গত ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে পাতিবিলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড থেকে সাবেক মেম্বর রুহুল আমিন ও ঠান্ডু বিশ্বাস অংশ গ্রহন করেন। নির্বাচনে ঠান্ডু বিশ্বাস জয়লাভ করেন। নির্বাচনে পরাজিত হবার কারনে তাদের মধ্যে দ্বন্দ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউনিয়নের ভোটকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় আমি অন্য একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। প্রথমে কে কাকে মারছে তা বুঝতে পারিনি। তিনি বলেন এলাকায় কয়েকদিন ধরে কানাঘোষা চলছিল যে নবাগত মেম্বরকে মারপিট করা হবে। ঘটনার সময় প্রতিপক্ষরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে এসে হামলা করে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত ও হত্যা মামলার আসামী সাবেক মেম্বর রুহুল আমিন, শরিফুলসহ ৫ জনকে থানা পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। ঘটনার সাথে জড়িত ও হত্যা মামলার আসামী ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।