চৌগাছায় চিরকুট লিখে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

0

 

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের চৌগাছায় চিরকুট লিখে মাহফুজুল হক (৭৫) নামে এক ব্যবসায়ী গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার স্বরুপদহ ইউনিয়নের টেঙ্গুরপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন চৌগাছা বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
শনিবার নিজ বাড়ির ছাদের উপর হেলে থাকা মেহগনি গাছের ডাল থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন তিনি শিরা রোগ, পেটের ব্যথা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। শরীরের যন্ত্রণা সইতে না পেরে গাছের ডালের সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
মৃত মাহফুজুল হকের বড় ছেলে শাহিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আমার আব্বা শিরা রোগ, পেটের ব্যাথা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। বিভিন্ন হাসপাতালের বড়-বড় ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই তিনি সুস্থ হননি। আমরা ৪ ভাই ৩ বোন সকলেই আব্বাকে খুব ভালোবাসতাম। আমরা সবাই তার চিকিৎসার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। পরিবারের কারো সাথে তার কোন মনোমালিন্য ছিলো না। কিন্তু কোন কিছুতেই তিনি সুস্থ্য না হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার রাতের খাওয়া শেষে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে হঠাৎ মার ঘুম ভেঙ্গে যায়। মা আব্বাকে না পেয়ে আমাদেরকে ডাকাডাকি করেন। আমরা উঠে দেখি বাড়ির গেট লাগানো রয়েছে। বাড়ির সাদের উপর উঠে লাইট মেরে দেখি আব্বা গাছে ঝুলে আছে। তখন আমার ভাইয়েরা আব্বাকে নামিয়ে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাদের ধারণা, তিনি গভীর রাতে যে কোনো সময়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বলেন, পরে আব্বার লেখা একটি চিরকুট পেয়েছি। তাতে তিনি লিখেছেন “খোকা বাপ আমি আর কাটাতি পারলাম না। কি করবো এত জালা আর সইতে পারলাম না। ঘাড়ে জালা, মাথায় জালা, পেটে জালা, আর কত সইবো। তোমরা সবাই দ্বীনের পথে থাকবা। কত ওষুধ খালাম রোগ ভালো হলো না। আমার জন্য সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করবা। আল্লাহ আমার মাফ করে দেবেন। আর যদি পুলিশ বাবাজিরা আসে বাবাজিদের কাছে আমার অনুরোধ শরীরের ও পেটের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আমি চলে গেলাম। ভাই-বোন সবাই আল্লাহর পথে থাকিস।’ আমার আব্বা অসুস্থ হওয়ার আগে সুনামের সাথে দীর্ঘ দিন চৌগাছা বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুলকার ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশটি ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।