চৌগাছায়ও ধান ক্ষেতে মাজরা পোকা কাজ হচ্ছে না কীটনাশকে

0

এম. এ রহিম চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকার পর চৌগাছায় রোপা আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমন ও রোগ-বালাইয়ের খবর পাওয়া গেছে। এ উপজেলায় কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ না হওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ১৭ হাজার ৮শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত জাতের এরাইজেড গোল্ড ৭ হাজার ৫ হেক্টর, ধানী গোল্ড ৪ হাজার ৪শ’ ৪৫ হেক্টর এবং উফশী ব্রি-৮৭, ৫১, ৪৯, ৩৪, ৮০ জাতের ধান ৫ হাজার ৫শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার ৭শ’ ২৫ মেট্রিক টন।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ধান ক্ষেতে গত দু’সপ্তাহ থেকে দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমন। কীটনাশক দিয়েও পোকার আক্রমণ ও রোগ বালাই ঠেকাতে পারছেন না কৃষকরা। স্বরুপদহ ইউনিয়নের আন্দারকোটা গ্রামের জহর আলী, নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের মহর আলী, শুকুর আলী, আলী হোসেন, ফুলসারা ইউনিয়নের ফুলসারা গ্রামের খলিলুর রহমান, শফিকুর রহমান, চৌগাছা সদর ইউনিয়নের দিঘলসিংহা গ্রামের জালাল উদ্দীন, আমজেদ হোসেনসহ অনেক চাষি জানান, অল্প সময়ের মধ্যে আমনের ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকার আক্রমন কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে মাঠে এ অবস্থা বিরাজ করলেও কৃষি বিভাগের লোকজন কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। যে কারণে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। চাঁদপাড়া গ্রামের চাষি আলী হোসেন বলেন, এ বছর তিনি ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। একই গ্রামের চাঁদ আলী ধান লাগিয়েছেন প্রায় তিন বিঘা জমিতে। তারা জানান, প্রতিটি ক্ষেতেই মাজরা পোকা লেগেছে। কোন কীটনাশকই এদের দমন করতে পারছে না। তারা অভিযোগ করেন, এই ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠে পাওয়া যায় না। তিনি মাঝে মধ্যে আসলেও বাজারে কীটনাশকের দোকানে বসে গল্প করে চলে যান। নারায়ণপুর ইউনিয়নের দায়িতরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে বরাবরই চাষিরা এমন অভিযোগ করে থাকেন। কিন্তু কেউ যদি আমাকে না জানান তাহলে কীভাবে জানবো তার ক্ষেতে পোকা লেগেছে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, এতে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পরিমিত কীটনাশক ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তা ফলনে তেমন প্রভাব ফেলবে না। নিয়মিত পরিচর্যা করলে মাজরা পোকার আক্রমন থেকে কৃষকের ধান রক্ষা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।