চৌগাছার সিএমআইটিতে হাতে কলমে শিক্ষা নিয়ে তৈরী হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি

0
যশোরের চৌগাছায় সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপে কারিগরি প্রশিক্ষণ ক্লাসে হাতে-কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন প্রশিক্ষক।। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা যশোর।। চৌগাছায় সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপ: কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির অনন্য এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে।

কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপ। প্রায় এক একর জমির ওপর ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে।

প্রতিষ্ঠানটিতে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সরকারি উপবৃত্তির আওতায় পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়, সেগুলো হলো—
ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং
ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রকৌশল শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত রয়েছেন।

সরকারি ভাতাসহ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ
সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ৯০ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি বই, খাতা, কলম ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
বর্তমানে সিসিপি প্রকল্পের অধীনে চারটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—
১. ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স
২. প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংস
৩. টাইলস অ্যান্ড মার্বেল ওয়ার্কস
৪. মেশিনারি অ্যান্ড স্টিল বাইন্ডিং

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাদের অনেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

দীর্ঘ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা
সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালে। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় একটি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়, যা ২০২১ সাল পর্যন্ত চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় চলমান ছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কেউ কেউ সেনাবাহিনীসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

বর্তমানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সিসিপি প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে প্রকল্পটি চলমান রয়েছে।

কারিগরি শিক্ষায় বিস্তৃত বিষয়
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নিজ খরচেও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, কম্পিউটার অপারেশন, ডাটা সায়েন্স অ্যানালাইসিস, নিটিং ও সুইং মেশিন অপারেশন, মেশিনারি, টাইলস ফিক্সিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, ওয়েল্ডিং ও রড বাইন্ডিংসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়।

মেডিকেল শিক্ষা দিয়ে যাত্রা শুরু
প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সিএমআইটি গ্রুপ অব এডুকেশন প্রথমদিকে মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম দিয়ে তাদের পথচলা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সাল থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়। ধীরে ধীরে প্রকৌশল শিক্ষা, সরকারি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই তাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ শেষে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।

২৫ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত
বর্তমানে সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপে প্রায় ২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন, সালমা আক্তার, আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠান হতে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই দেশ ও বিদেশে যেয়ে ভালো কাজ করছেন। আমরা অনেকেই আছি ইনশাআল্লাহ বড়দের মত আমরা দক্ষ হয়ে এখান থেকে বের হবো।

শিক্ষক প্রকৌশলী ইশিতা জাহান বলেন, সিএমআইটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীর যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠছে আবার কোর্স শেষ হলে পাচ্ছেন এককালীন অর্থ।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, চৌগাছা উপজেলা, যশোর জেলা তথা খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণে সিএমআইটি এডুকেশন গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছেন ,ভবিষ্যতেও তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চায়, এ জন্য সকালের সহযোগিতা চাই।