প্রবাসীদের ডলারে কেনা জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে মূল্য সমন্বয়: প্রতিমন্ত্রী অমিত

বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে জ্বালানির দাম আবারও কমানোর ইঙ্গিত

0
প্রবাসীদের ডলারে কেনা জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে মূল্য সমন্বয়: প্রতিমন্ত্রী অমিত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন - লোকসমাজ

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা, লোকসমাজ : প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল সীমান্তপথে পাচার হওয়ার ঝুঁকি রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বর্তমান দামের চেয়েও কমানোর সুযোগ রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় সীমান্ত এলাকায় পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “জ্বালানি তেল বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করতে হয়। সেই বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। তাদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জ্বালানি তেল যদি পাচার হয়ে যায়, তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান বহন করতে হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে।

জ্বালানির দাম পুনরায় কমানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও সমন্বয় করা হবে এবং সুযোগ থাকলে আগের দামের চেয়েও কম নির্ধারণ করা হতে পারে।

বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে কৃষিতে সেচ ব্যয় কমাতে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ হ্রাস করতে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আযম মুহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্স, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদুজ্জামান মোনা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।