চৌগাছার বর্ষাগাড়ি খালের সেতুর ব্রিজে ৫ বছরেও হয়নি সংযোগ রাস্তা

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা উপজেলার টেংগুরপুর-হাজরাখানা সড়কে বর্ষাগাড়ি খালের ওপর নির্মিত সেতুর দু পাশের কাঁচা রাস্তা গত পাঁচ বছরেও পাকাকরণ হয়নি। ফলে নতুন সেতুতে ওঠানামায় পথচারীসহ সব ধরনের যানবাহন চালককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সরেজমিনে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের টেংগুরপুর-হাজরাখানা দেখা যায়, খালের ওপর ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়রা এই খালকে বর্ষাগাড়ি খাল হিসেবে চেনেন। বর্ষায় খালটি দিয়ে চৌগাছা ও মহেশপুর উপজেলার অসংখ্য গ্রাম ও মাঠ ঘাটের পানি পাশেই কপোতাক্ষ নদে গিয়ে পড়ে। সেতুর স্থানে যেনতেন একটি কালভার্ট থাকায় সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ সেখানে টেকসই একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬শ ৫৩ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ওই বছরই তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি মূল সড়ক থেকে সেতু তুলনামূলক বেশ উঁচু করা হয়েছে। শুধু তাই না সেতুটি নির্মাণ করে চলাচলের জন্য ছেড়ে দেয়া হলেও এর দুই পাশের কাঁচা রাস্তাটুকু পাকা করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে সেতুতে উঠতে রিকশা-ভ্যানসহ ছোটখাটো যানবাহনকে বেগ পেতে হয়।
হাজরাখানা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল মমিন বলেন, দিন মাস না, বছরের পর বছর পার হয়েছে কিন্তু সেতুর দুই পাশের কাঁচা রাস্তাটুকু আজও পাকা করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে সেখানকার ইট,বালু সরে গিয়েয়ে চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হয়। এলাকাবাসী নিজের উদ্যোগে তা মেরামত করেন। রিকশা-ভ্যানচালক সায়েদ আলী বলেন, এখন তো কিছুটা চলাচল করা যাচ্ছে কিন্তু বেশির ভাগ সময় এই জায়গা নষ্ট থাকে তাতে করে আমাদের শুধু কষ্টই বাড়ে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাজরাখানা গ্রামের মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, ‘সেতুটি পার্শ্ববর্তী স্বরুপদাহ ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও চলাচল আমার এলাকার মানুষ বেশি করেন। তাই বাধ্য হয়ে নিজের অর্থে দুইবার পাশের রাস্তাটি মেরামত করেছি। শুধু তাই না পথচারীদের সুবিধার্থে সেতু স্থানে একটি সৌর চালিত সড়ক লাইট স্থাপন করেছি।’ সেতুর দুই পাশের কাঁচা সড়কটুকু দ্রুত নির্মাণের দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর রহমান বলেন, ‘সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশের কঁাঁচা সড়কটুকু পাকাকরণের কোনো অর্থ বরাদ্দ থাকে না। ওই সড়ক যখন নতুনভাবে মেরামত করা হবে কেবল তখনই সেতুর দুই পাশের সড়কও পাকা হবে।’