চৌগাছার পাতিবিলা হাইস্কুলে লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ আওয়ামী লীগের পনের বছরের দুঃশাসনে যশোরের চৌগাছার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা অর্থ বাণিজ্যের তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। প্রতিটি বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির যোগসাজসের প্রমাণ মিলছে।
চৌগাছার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত পাতিবিলা হাজী শাহাজান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও নিয়োগের নামে অর্থ হাতবদল হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে সাবেক সভাপতি নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে।
চৌগাছা কোটচাঁদপুর সড়কে পাতিবিলা বাজারের পশ্চিম পাশে অত্যান্ত মনোরাম পরিবেশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। প্রতিষ্ঠাকাল হতে এর সুনাম উপজেলাব্যাপী। কিন্তু সাবেক সভাপতি ও বর্তমান প্রধান শিক্ষকের অর্থমোহে বিদ্যালয়টির বদনাম হয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যালয়ের সভাপতির চেয়ার দখলে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাতিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া শুরু করেন। অফিস সহায়ক, ঝাড়–দার, পিয়ন, নৈশপ্রহরী পদে নেয়া হয় লোক। সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিয়া সমাজের নি¤œ আয়ের গরীব অসহায় প্রার্থীদের নিকট হতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা জনপ্রতি গ্রহণ করেন। সাবেক দপ্তরী কওছার আলীর মৃত্যুর পর ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয় মুকুল হোসেনকে। মুকুল চাহিদামত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে জোর করে নৈশ পহরী পদ দেয়া হয়। আর দপ্তরির শূন্য পদে ২০২৩ সালে নিয়োগ দেয়া হয় লিটন হেসেনকে। এ পদের জন্য লিটনের কাছ থেকে সভাপতি নেন ১২ লাখ টাকা। লিটন হোসেন স্থানীয় ঠান্ডু মেম্বর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরেও টাকা ও আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগ আছে স্কুল মাঠের বিভিন্ন ধরনের গাছ টেন্ডার ছাড়াই তিনি বিক্রি করে সমুদয় টাকা পকেটস্থ করেন সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনার আমলে শহিদুল ইসলাম মিয়া ছিলেন দাপুটে নেতা। ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সাবেক মেম্বর আলমগীর হোসেনকে তার বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়া হয়। আলমগীর হোসেন বেঁচে আছেন তবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর শহিদুল মিয়া বেশ কিছু দিন ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। এখন মাঝে মাঝে বাড়ি হতে বের হন এবং মাস্ক পরে বাজারে ঘুরে বেড়ান। দুর্নীতির মাধ্যমে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন। জনশ্রুতি আছে যশোর শহরের কাঁঠালতলায় তার দুইটি ফ্লাট আছে, বাড়ি আছে ঝিনাইদাহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে। এছাড়া তার ভারতে একটি বিলাশ বহুল বাড়ি আছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন যার কোনই রোজগার নেই রাজনীতি যার একমাত্র পেশা সে এতো টাকার মালিক হলো কিভাবে?
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম মিয়ার সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যবহৃত ০১৭১২৪৪৭০০৯ নং মোবাইলে বারবার চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।