চৌগাছার গুড় মেলায় উৎসাহী মানুষের ভিড়

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের যশ খেজুরের রস ঐতিহ্যকে সামনে রেখে যশোরের চৌগাছায় আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী খেজুর গুড়ের মেলা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ড. এম মোস্তানিছুর রহমান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা এসময় উপস্থিত ছিলেন। মেলা উপলক্ষে স্থানীয় গাছি ও গুড় উৎপাদনকারীসহ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক উপজেলা প্রশাসন বলছে, খেজুর রস ও গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজন করা হয়েছে এ মেলার। মেলার নলেন গুড়ের মৌ মৌ সৌরভে ভরে উঠে গোটা উপজেলা চত্তর। মেলায় প্রায় ২শ’ গাছি তাদের উৎপাদিত গুড় নিয়ে মেলায় অংশ গ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী গাছি উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের বদরুজ্জামানের ছেলে গাছি আমির হোসেন জানান, এখন আর আগের মত খেঁজুর গাছ নেই। কোন রকম বাপ-দাদার এই পেশা আমরা ধরে রেখেছি। তিনি বলেন, খেঁজুর গাছ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। গাছিদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে এই পেশা ধরে রাখা সম্ভব।
পাতিবিলার আনোয়ার মোল্লা ও একই গ্রামের দাউদ হোসেন, লস্কারপুর গ্রামের মগরেব আলী, মাধবপুর গ্রামের আজিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম, সাদিপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীসহ একাধিক গাছি বলেন, খেজুর গাছ নিধন বন্ধ করলে গুড় উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া প্রতিবছর অন্যান্য গাছের সাথে খেজুর গাছ রোপন করার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড.এম মোস্তানিছুর রহমান বলেন, গুড় মেলার প্রথম দিনে গাছি ও সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এ যেন মিলন মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ জনপদের মানুষ যার যার অবস্থানে থেকে খেঁজুর রক্ষায় সকলেই এগিয়ে আসবেন এমনটিই প্রত্যাশা করছি। ব্যতিক্রম এই মেলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যশোর জেলার ঐতিহ্যের সাথে খেজুরের রস-গুড় যুক্ত রয়েছে। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আমরা মেলার আয়োজন করেছি। খেজুর গাছ যেমন সংরক্ষণ করতে হবে তেমনিভাবে সঠিক গুড় মানুষের মাঝে বিক্রি করতে হবে। উপজেলা প্রশাসন মূলত এই দিকটি সামনে রেখে মেলার আয়োজন করেছে। মেলার শেষ দিন অংশ গ্রহণকারী সকল গাছিদের সম্মানিত করা হবে। সেরা গুড় উৎপাদক গাছিকে পুরস্কৃত করা হবে। মেলার মাধ্যমে মানুষ সচেতন হয়ে খেজুর গাছ নিধন করা থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করছি।