চোর আতংক যশোরে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে চোরের উপদ্রপ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন লোকজন। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। বাসাবাড়ি দোকানপাট কোন কিছুই নিরাপদ থাকছে না।
সর্বশেষ দ্ইু তিন আগে শহরের রেলগেট চোরমারা দীঘিরপাড় এলাকার একটি বাসার সামনে থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে সবচেছে বেশি চুরি হচ্ছে মোটরসাইকেল। এক মাসে অন্তত ৫টি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে চোর চক্র বেপরোয়া উঠেছে। তাছাড়া চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ভূমিকা পালন করছেনা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোর শহরের রেলগেট চোরমারা দীঘির দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দা ঠিকাদার আনোয়ারুল হক গোরার বাড়ির সামনে বৈদ্যুতিক বিভিন্ন মালামাল রেখে দেন তার ম্যানেজার। পরদিন ২৯ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সাড়ে ৩ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরি করে হয়ে গেছে। পরে সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে চোর চক্রের সদস্যরা বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়ে গেছে। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত দুই জনকে আটক করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি রেলগেট এলাকায় আরও কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড হলুদের মিল মোড়ের ফুড সেন্টার নামে একটি বিকাশ এবং মুদি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সার্টারের তালা কেটে দোকানের ভেতরে ঢুকে নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস আগে ঘোপ বটতলার পুনাক মার্কেটের সখিনা ড্রাগস নামে একটি ওষুধের দোকানে অনুরূপ দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা টিনের চাল এবং লোহার জালি কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ কয়েক লাখ টাকাসহ দামী ওষুধ চুরি করে নিয়ে যায়। দুটি দোকানে চুরির ঘটনায় মালিকেরা কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ জড়িত কাউকে আটক অথবা চুরি যাওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।
যশোরে শুধু দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা নয়, এক মাসে বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৫টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির উত্তর পাড়ার মৃত আবু বক্কার বিশ্বাসের ছেলে হাবিবুর রহমান একই এলাকায় মামা রফিকুল ইসলামের জানাজায় অংশ দিতে তার বাড়িতে যান। তিনি নিজের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল মরহুম মামা রফিকুল ইসলামের বাড়ির উঠানে রেখেছিলেন। আধাঘন্টা পর জানাজা শেষে তিনি ফিরে এসে দেখেন, তার মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেছে। গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোর শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে ইমামুল ইসলাম রুমন তার ব্যবহৃত একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল বাড়ির সামনে রেখে ভেতরে যান। প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে দেখতে পান, ঘাড়লক তালা ভেঙে তার মোটরসাইকেলটি অজ্ঞাত পরিচয় চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে। গত ১৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের শেখ কোরবান আলীর ছেলে আবুল বাশার কুমারঘাটা দাখিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর তার ব্যবহৃত বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল রেখে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যান। মিনিট দশেক পর তিনি ফিরে এসে দেখেন, তার মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেছে। গত ৮ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট এলাকার মৃত আবু বক্কার চৌধুরীর ছেলে আব্দুল গফ্ফার চৌধুরী তার ব্যবহৃত একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল স্থানীয় মসজিদের সামনে রেখে ভেতরে যান জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য। পরে নামাজ শেষে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখতে পান, তার মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেছে। গত ২৬ নভেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ইন্দ্রা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আফজাল হোসেন তার ব্যবহৃত একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল মহিরন গ্রামের জনৈক মাজেদুল ইসলামের বাড়ির পাশে রেখে কাছের একটি স্থানে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যান। ২০মিনিট পর তিনি ফিরে এসে দেখেন, তার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর উপজেলার জঙ্গলবাঁধা গ্রামের শেখ শওকত আলীর ছেলে রবিউল ইসলামের একটি ইজিবাইক চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তার একটি ইজিবাইক বসুন্দিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে রেখে দেন। পাঁচ মিনিট পর তিনি সেখানে এসে দেখেন, তার ইজিবাইকটি চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর যশোর শহরের বকচর বিহারী কলোনির রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের একটি অটোভ্যান আরএন রোড থেকে চুরি হয়ে গেছে।