চাঁদপুরে জাহাজে খুন চার জনের বাড়ি নড়াইল ও মাগুরায়, পরিবারে শোকের মাতম

0

সুলতান মাহমুদ,নড়াইল ও মহম্মদপুর সংবাদদাতা॥ চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের এমভি আল-বাখেরা নামের সারবাহী জাহাজ ডাকাতদের কবলে পড়ে হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া সাতজনের মধ্যে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দুইজন ও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দুই জন রয়েছেন। পরিবারের উর্পাজনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এগারোনলি গ্রামের মৃত আবেদ শেখের ছেলে সালাউদ্দিন শেখ (৪০) দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর জাহাজে চাকরি করতেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি জাহাজের মাস্টার (চালক) ছিলেন। অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। সংসারে মা, স্ত্রী, এক সন্তান ও দুই মেয়ে রয়েছে তার। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় দিশেহারা সালাউদ্দিনের পরিবার। গত ১৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে কাজে যান তিনি। এদিকে গত রোববার দিবাগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে নোঙরে থাকা জাহাজ এমভি আল-বাখেরা ডাকাতদের কবলে পড়লে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন তিনি।
একই জাহাজে হত্যাকান্ডের শিকার আমিনুল মুন্সীর (৪১) বাড়িও নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার উত্তর লংকারচর গ্রামে। আমিনুল মুন্সী ওই গ্রামের মৃত নান্না মুন্সীর ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। স্ত্রী নাদিরা বেগমসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ের রয়েছে তার। সংসারের উপার্জনকারী ব্যক্তি হিসেবে প্রায় ১২ বছর ধরে জাহাজে সুকানি হিসবে কাজ করতেন তিনি। নিহত আমিনুল মুন্সীর বড় ভাই হুমায়ুন মুন্সী জানান, গত শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) ছোট ভাই আমিনুল লোহাগড়া উপজেলার গ্রামের বাড়ি থেকে কাজে যান তিনি। পরিবারের উর্পাজনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা।হত্যাকান্ডে যারা জড়িত যাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রানা কাজী বলেন, ৩দিন আগে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ভাবতেও পারিনি লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরবে আমিনুল।তার মৃত্যুতে গোটা পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরদেহ দুটি বাড়িতে পৌঁছানোর পর নিজ নিজ বাড়িতে দাফন করা হবে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মহম্মদপুর (মাগুরা)সংবাদদাতা জানান, মাগুরার মহম্মদপুরের দুইটি গ্রামে গত দুইদিন ধরে চলছে শোকের মাতম।

উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ও চর যশোবন্তপুর গ্রামের দুইটি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সোমবার এম ডি আল বাখেরা নামক একটি লোড জাহাজ মেঘনা নদীর চাঁদপুর জেলার হরিনাঘাট এলাকায় পৌছালে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জাহাজে থাকা আটজন শ্রমিককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে ডাকাত দল। নিহত আটজনের মধ্যে মহম্মদপুরের দুইজন যুবক রয়েছেন। একজন পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন ও গ্রামের দাউদ মোল্যার ছেলে সজিবুল ইসলাম। আপরজন একই ইউনিয়নের চর যশোবন্তপুর গ্রামের আনিস মোল্যার ছেলে মাজেদুল ইসলাম।

নিহত সজিবুল ও মাজেদুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেখানে গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

সূত্র জানায়, চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর মাঝের চর হরিনা বয়ার বিপরীত পাশে জাহাজটি পৌঁছালে ভয়াবহ এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জাহাজে থাকা আটজন শ্রমিককে ডাকাত দল কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।