খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মেয়রসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি মামলা

0

 

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) মাহবুবুর রহমান ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও দোকান ভাঙচুরের মামলা হয়েছে।
রোববার নগরীর ডাকবাংলা মোড়ের ব্যবসায়ী শেখ মেরাজ হোসেন অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডির উপ-কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ মেরাজ হোসেনের বাবা ২৮ বছর ধরে ডাকবাংলো মোড়ের হুগলি বেকারের পেছনে জমি ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছেন। এ হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামে তাদের দোকানে প্রায় এক কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২০ জুন বিকেল ৩টায় জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তার বাবাকে জমির মূল কাগজপত্র নিয়ে ডেকে পাঠান। যাচাইয়ের কথা বলে মূল কাগজ রেখে দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। ওইদিন জেলা পরিষদে গেলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, টাকা না দিলে মূল কাগজ ফেরত দেওয়া হবে না এবং দোকানের বরাদ্দ বাতিলের হুমকি দেন। ওই দিন মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই জমি কেসিসির অধীনে হস্তান্তর হওয়ায় মেয়রকেও ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হবে। এই ৩০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় গত ২১ জুন রাত ১০টায় মেরাজ হোসেনের দোকানটি ভেঙে ফেলে। এতে দোকানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ওই সময় সদর থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। আসামিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় সে সময় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।