খুলনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা

0

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা ॥ ওমিক্রন সংক্রমণরোধে বিধিনিষেধের প্রথম দিনে সরকারের বেঁধে দেওয়া কোন নিয়ম মানছেন না খুলনার সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি গণপরিবহনেও। নগরীর মার্কেটগুলোতেও একই অবস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা ডাকবাংলার কয়েকটি মার্কেট ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই মাস্ক মুখে না লাগিয়ে থুতনিতে বাঁধিয়ে ঘুরছেন। সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র। কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের জটলা। কারো মুখে নেই মাস্ক। হোটেলগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আগ্রহ দেখা যায়নি নগরীর খেয়া ঘাটগুলোতেও।
ডাকবাংলা মোড় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেটে কথা হয় রূপসা উপজেলার রামনগর এলাকার জিহাদের সাথে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তাকে তড়িঘড়ি করে মুখে মাস্ক পরতে দেখা যায়। ওমিক্রনের ভয়াবহতা সম্পর্কে কথা হলে বলেন, আল্লাহ যা করবেন সেটি সকলের মেনে নিতে হবে। শুক্রবার বোনের বিয়ে। তাই সকলকে নিয়ে কেনাকাটায় এসেছেন বলে জানান।
সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের চিত্র ভিন্ন। পাইকগাছাগামী একটি বাস অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্ট্যান্ড ত্যাগ করে। কিন্তু রাস্তা থেকে যাত্রী তুলতে তুলতে গল্লামারী স্ট্যান্ডে গিয়ে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যাত্রীসহ ওই বাসটির ছবি তুলতে গেলে চালক ও হেলপার রুঢ় আচরণ করেন। চালনাগামী ‘মাতা পিতার দোয়া’ নামে একটি বাস সোনাডাঙ্গা থেকে রওনা হয়। গল্লামারী এসে দেখা যায় একই অবস্থা। চালক হালিম বলেন, ‘সরকার ভাড়া বাড়ায়নি। কিন্তু যাত্রী অর্ধেক নিয়ে চলতে বলেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের কথা মানলে পেট মানবে না, সাথে মালিকও বাঁচবে না।’ পত্রিকাবাহী একটি মাইক্রোবাস সোনাডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে দুপুর একটার দিকে ছেড়ে যায়। সেখানে ১৪টি আসনেই যাত্রী ছিল তাও আবার গাদাগাদি করে। গাড়িতে বসাকে কেন্দ্র্র করে দুই যাত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে চালকের হস্তক্ষেপে মীমাংসা হয়। অধিক যাত্রী নিয়ে গাড়ি ছাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে চালক বলেন, ‘বেতন যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। ফিরতি পথে বাড়তি আয়ের জন্য এ পন্থা অবলম্বন করি।’ অপরদিকে রূপসা খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায় অধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা পারাপার করছেন মাঝিরা। সরকার যে আজ থেকে বিধিনিষেধ জারি করেছে তা অনেকেই জানেন না। অধিক যাত্রী নিয়ে নগরীতে চলাচল করছে ইজিবাইকও। মালিকের পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তারা অধিক যাত্রী বহন করছেন বলে জানান আরিফ নামের এক চালক। তাছাড়া আজ থেকে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।