পালানোর মামলায় হাজিরা দিতে এসে ফের আদালত থেকে চম্পট হত্যা মামলার আসামি

0
ঢাকার সিএমএম আদালতে পালানোর মামলায় হাজিরা দিতে এসে হাতকড়া খুলে দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়েছেন হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম।। ছবি: সংগৃহীত

পালানোর মামলায় হাজিরা দিতে এসে ফের আদালত থেকে চম্পট হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম (২৮)। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৭ নম্বর এজলাসে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত) এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

পলাতক আসামি শরিফুল ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামে এবং তাঁর বাবার নাম মৃত শফিক আহমেদ। তিনি ২০১৮ সালে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে কারাগারে ছিলেন।

ঘটনাবলী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ জুন খিলগাঁও থানার ওই হত্যা মামলায় শরিফুলকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। সেই পালানোর ঘটনায় পরবর্তীতে রাজধানীর কোতোয়ালি মডেল থানায় পেনাল কোডের ২২৪ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন এবং আজ মঙ্গলবার ওই পালানোর মামলার শুনানির জন্যই তাঁকে পুনরায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

সিএমএম কোর্টের ডিউটি বণ্টন তালিকা অনুযায়ী কনস্টেবল মো. আব্দুল আলিম আসামি শরিফুলকে আদালতে হাজির করার দায়িত্ব পান। নির্দেশনা মোতাবেক সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি আসামিকে ৭ নম্বর সিএমএম আদালতে নিয়ে যান।

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গত বছরের ১৯ জুন পালিয়েছিলেন আসামি শরিফুল ইসলাম। সেই ঘটনার ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি।

আদালতে আসামির হাতের হাতকড়ার এক অংশ কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে এবং অপর অংশ আসামির হাতে বেঁধে দেওয়া হয়। হ্যান্ডকাফ বাঁধার কাজটি সম্পন্ন করে ওই কনস্টেবল আদালতের সামনের বারান্দায় অবস্থান নেন। পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কনস্টেবল এজলাসে প্রবেশ করে দেখতে পান আসামি সেখানে নেই। ওই সময় এজলাসের ভেতরে কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে খালি হাতকড়াটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। শরিফুল কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালতকক্ষ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, আদালত চত্বর থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলাসহ সার্বিক বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দাসহ পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।