খুলনায় রান্নার সময় সবুজ হলো গরুর মাংস: ল্যাব পরীক্ষার উদ্যোগ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

0
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাওয়া গরুর মাংস। পরে সেই মাংসসহ কড়াই নিয়ে প্রশাসনের শরণাপন্ন হন একটি বেকারির কর্মচারীরা ।। ছবি: সংগৃহীত
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের স্বাভাবিক রং বদলে নীলচে-সবুজ হয়ে যাওয়ার এক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য বাজার থেকে চার কেজি গরুর মাংস কিনে রান্না করার সময় এই অদ্ভুত পরিবর্তনের মুখোমুখি হন। পরে তাঁরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় থানায় হাজির হন।

ঘটনার পরপরই পাইকগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মণ্ডল রান্না করা মাংসের নমুনা এবং সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতার ফ্রিজে থাকা প্রায় ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংস জব্দ করেন। বৃহস্পতিবার কাঁচা ও রান্না করা—দুই ধরনের নমুনাই খুলনার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই নমুনাগুলো সংরক্ষিত রয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, এই ধরনের ঘটনা একেবারেই নতুন। রবিবার প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্ধারণ করা হবে যে ঠিক কোন ল্যাবে এই নমুনা পাঠানো হবে এবং কী কী পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তিনি জানান, মাংস পচে গেলে সাধারণত সবুজ হয় না। ধারণা করা হচ্ছে, মাংসের প্রোটিনের সঙ্গে কোনো একটি উপাদানের বিক্রিয়ার ফলে এই রং সৃষ্টি হয়েছে, যা মসলা, রান্নার পাতিল বা অন্য কোনো উৎস থেকেও আসতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো শুধু মাংসের রং পরিবর্তিত হয়েছে, তবে ঝোলের রং স্বাভাবিকই ছিল। তা ছাড়া ওই একই গরুর মাংস কেনা অন্য কোনো ক্রেতার কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই পরীক্ষা ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা জানান, তাঁরা সেই মাংস না খেয়ে ফেলে দিয়েছেন। ল্যাব পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্যানিটারি কর্মকর্তাদের নজর রয়েছে।