খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ির প্রভাব: ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না’ বললেন শিক্ষামন্ত্রী

0
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার সার্বিক পাসের হার কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা ও নম্বর প্রদানের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না।”

সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। ফলাফল প্রকাশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শিক্ষকরা এবার উত্তরপত্র বা খাতা মূল্যায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উত্তর দেন। তিনি বলেন, মন খুলে গান গাওয়া গেলেও উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদারতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। খাতা যথাযথভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর শুধু পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যাই কমেনি, শতভাগ ফেল করা বা শূন্য শতাংশ পাসের হার পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭টিতে, যা গত বছর ছিল ৪৮টি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে; এ বোর্ডে এবার ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যেখানে গত ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৬টি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর কোনো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান না থাকলেও এবার তা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে।