যশোর বোর্ডে এসএসসিতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

 গড় পাশের হার ৬৬.২৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৪৭৮ জন

0

তহীদ মনি, লোকসমাজ : এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোর বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৯.৮৫ শতাংশ পক্ষান্তরে মেয়েদের পাশের হার ৭২.৬৪ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় এ বছর পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। এছাড়া শুন্য পাশের অর্থাৎ শতভাগ ফেলের বিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে।এ বছর শতভাগ ফেলের বিদ্যালয় ১১টি, গত বছর ছিল ২টি। গত বছর বোর্ডএ পাশের হার ছিল ৭৩.৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ ছিল ১৫ হাজার ৪১০ জনের।

বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেড়িয়ে এসেছে বোর্ড। পাসের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে পাসের মানের উপর জোর দেয়া হয়েছে। একসময় শিক্ষার্থীরা করতো পরীক্ষা দিলেই পাশ হয় এখন বই পড়ে পরীক্ষা দিতে হয় নকলমুক্ত পরিবেশে। এবছর ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাশের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের তথ্য মতে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে পাস করেছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছে ৩৪ হাজার ১৭ জন পরীক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৯ হাজার ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছে।

জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৮০৯ জন ও মেয়ে ৫ হাজার ৩২৭ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে ১৭৯ জন ও মেয়ে ৭৯২ এবং বাণিজ্য বিভাগে ছেলে ১৩৯ জন ও মেয়ে ২৩২ জন।
চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগে মেয়েদের পাশের হার ৮৮.৯৫ শতাংশ, ছেলেদের পাশের হার ৮৪.৭৫ শতাংশ। মানবিক বিভাগে মেয়েদের পাশের হার ৬৪.১৯ শতাংশ এবং ছেলেদের পাশের হার ৪৬.৫৮ শতাংশ এবং বাণিজ্য বিভাগে মেয়েদের পাশের হার ৭৬. ৫৮ শতাংশ এবং ছেলেদের পাশের হার ৬৬.০৭ শততাংশ। সে হিসেবে সব বিভাগেই পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি মেয়েদের প্রাধান্য রয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাশের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক। এবছর বোর্ড এ ইংরেজি পাসের হার ৭১.৮৪%, গণিতে পাশের হার ৮৩.৩৪% এছাড়া অন্য সব বিষয়ের পাশের হার ৯০ শতাংশের বেশি।
তিনি আরো বলেন, শূন্য পাশের বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে যে ১১টি প্রতিতষ্ঠানে শূন্য পাসের হার সেই সবগুলো মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩৬ জন।

এ দিকে শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৬টি। এর মধ্যে শতভাগ পাশকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য যশোরের ১৪টি, বাগেরহাটের ৬টি, খুলনার ৪টি, কুষ্টিয়ার ৪টি সাতক্ষীরার ৩টি, নড়াইলের ২টি, মাগুরার ২টি ও ঝিনাইদহের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

একইভাবে শূন্য শতাংশ পাশ বা শতভাগ ফেলের ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যশোরের ৪টি, সাতক্ষীরার ৪টি খুলনার ২টি ও বাগেরহাটের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসএসসিতে যশোর বোর্ডেশতভাগপাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
খুলনা পাবলিক কলেজ, করাপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাগেরহাট, খোদেজা খাতুন সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাগেরহাট,পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ,কুষ্টিয়া, মাহমুদুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,যশোর, দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোর, বিএএফ শাহীন কলেজ, যশোর,বাগডাঙ্গা দহাকুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর, মহাদেবপুর আর. বি. এস. মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,যশোর, সুন্দলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোর, আন্ধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,মাগুরা, চরবানিয়ারী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাগেরহাট, ভোমরা ইউনিয়ন পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা,পুটিয়া আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগেরহাট,ছলিমিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাগুরা, ধোপাদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর, মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা, মুলদাইর তলাতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,নড়াইল, সখিনা গার্লস হাই স্কুল, যশোর, সেক্রেড হার্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর, ফাতেমা বেগম গার্লস হাই স্কুল, সাতক্ষীরা, বালিয়াডাঙ্গা জুনিয়র গার্লস মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল, সাবেরা ফেরদৌসী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,বাগেরহাট,, যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা, আকিজ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোর, সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুষ্টিয়া, টেসল ইংলিশ ভার্সন স্কুল, কুষ্টিয়া, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর, শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট ,বাগেরহাট, সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ , খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ,খুলনা এবং হাসিব ড্রিম স্কুল কলেজ , কুষ্টিয়া।

শূন্য পাশের হার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোর, কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা, ডি. এন. একতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট, গোদাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা, আসমা সারওয়ার ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনা, চাঁদুয়া সামশকাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর, সাড়াতলা জুনিয়র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর, বাবুরাবাদ ধাপুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা, মুক্তিযোদ্ধা জি. কে. জি. এস. মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোর ও সাহেবখালী ছিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা।

শূন্য পাশের হার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
সাতক্ষীরা ওয়াইশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোর, কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা, ডি. এন. একতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট, গোদাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা, আসমা সারওয়ার ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনা, চাঁদুয়া সামশকাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর, শরশতলা জুনিয়র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর, বাবুরাবাদ ধাপুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা, মুক্তিযোদ্ধা জি. কে. জি. এস. মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোর ও সাহেবখালী ছিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা।