কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশ পাহারায় সকালে প্যারোলে মুক্ত হয়ে স্বামীকে শেষবিদায় জানাতে গেছেন দীপু মনি

0
সকাল সোয়া ছয়টার দিকে দীপু মনি মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় বের হয়ে আসেন ।। ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত স্বামীকে শেষবিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি। মেয়ের আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকাল সোয়া ছয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় তাঁকে মুক্ত করা হয়।

ভোরের আলো ফোটার পরপরই কারাফটকে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তামূলক দল প্রবেশ করে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৬টা ১০ থেকে ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে দীপু মনিকে কারাগার থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তুলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. হাসেম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির নির্দেশনার কাগজ পাই। সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ভোরে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁর নিরাপত্তার জন্য পুলিশের দুটি গাড়ি ও প্রিজন ভ্যানে পুলিশের ৩৮ জন সদস্য ছিলেন। তাঁরা যেভাবে তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেভাবেই সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে তাঁকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়াত তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ সকালে ঢাকার কলাবাগানে তাঁর নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়, যেখানে দীপু মনি তাঁর স্বামীর মুখ শেষবারের মতো দেখেন। পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতির পর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া মাহফিল শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে গতকাল দুপুরে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাঁর চার দিনের প্যারোলে মুক্তির লিখিত আবেদন করেন। আবেদন বিবেচনার পর মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য এই প্যারোল মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন দীপু মনি। তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানাবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবিত অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দীপু মনি একাধিকবার আবেদন করলেও অনুমতি মেলেনি; আদালতের শুনানির দিনগুলোতে শয্যাশায়ী তৌফিক নেওয়াজ স্ট্রেচারে করে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবক্ষয় ঘটলে তাঁকে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর মায়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য দীপু মনির মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনি যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তাঁর মুক্তির পথ সুগম হয়।