কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: সাতক্ষীরার দুজনের প্রাণহানি, স্বজনদের অপেক্ষা ও হাহাকার

0
আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার ।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা রেবতী সরকার ও আলিমুজ্জামান সাজু। বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) রাতে তাঁদের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনেরা এখন মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রহর গুনছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, মাত্র পাঁচ-ছয় দিন আগে শারীরিক চেকআপের জন্য সুস্থ-সবল অবস্থায় ভারতে গিয়েছিলেন সাজু। খবর পেয়ে তাঁদের এক ভাগনিজামাই কলকাতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজুর মরদেহ শনাক্ত করেন।

সাহেব সরদার বলেন, “মরদেহ দেশে আনার জন্য ময়নাতদন্তসংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া আছে বলে বলা হয়েছে। এখন দূরে থেকে তো কিছু করার নেই। আমরা অপেক্ষা করছি, কখন মরদেহ বুঝে পাব।”

অন্যদিকে একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে আরেক নিহত রেবতী সরকারের বাড়িতেও চলছে বিষাদের পরিবেশ। রেবতীর স্বজন তপন সরকার জানান, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ১০ দিন আগে ভারতে যান রেবতী এবং আগামী শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে বুধবার রাতে হোটেলে আগুনে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।

রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার ফোনে স্ত্রীকে হারানোর কথা জানিয়েছেন, তবে এরপর থেকে তাঁর ফোনও বন্ধ রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের ছেলে অনিক সরকার উত্তরাখণ্ড থেকে ট্রেনে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক আকন্দ জানান, “গতকাল দিনে আমরা পাঁচজন বাংলাদেশির মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছিলাম। রাতে আরও দুজন, সাতক্ষীরার বাসিন্দার মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করছি, আজই মরদেহগুলো দেশে পাঠানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ভারত সরকারও আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। নিহত বাকি পাঁচজন হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ঢাকার সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু।