কেশবপুরে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে না ওঠায় হতাশ ব্যবসায়ীরা

0

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ দীর্ঘ ৩৯ বছরেও কেশবপুওে প্রস্তাবিত বিসিক শিল্পনগরী গড়ে ওঠেনি। ১৯৮৫ সালে বিসিক গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কর্র্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তায় এ উপজেলার ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছেন। অনুকূল পরিবেশ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এ সংক্রান্ত ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের লাল ফিতায় আটকে রয়েছে।
যশোর জেলার অন্যতম শিল্পস্থান বলে খ্যাত কেশবপুর। এখানে ক্ষুদ্র শিল্প থেকে শুরু করে বড় বড় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এককভাবে ও অনেক ক্ষেত্রে মূলধনের অভাবে অনেক শিল্প উদ্যোগ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
১৯৮৫ সালে কেশবপুড়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরী গড়ার উদ্যোগ নিলে ব্যবসায়ী মহলে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা তাদেরকে হতাশ করেছে। এখানে বাঁশ, কাঠ, ঢেঁকি, কামার-কুমার, হস্তচালিত তাঁত, খরগোশ প্রজনন কেন্দ্র, পোল্ট্রি, ডেইরি, ডাক ফার্ম, হোমিওপ্যাথিক শিশি, কর্ক, বোতাম, রঙ, তুলি, ব্রাশ কারখানা, বাঁশ ও বেতের ডেকোরেটিং, ঘানিসহ বহুমুখী শিল্প স্থাপণের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা কেবলমাত্র পুঁজির অভাবে এসব শিল্প বহুমুখী করতে পারছেন না। অথচ স্বল্প পুঁজি বিনিযোগে এসব শিল্পের সম্প্রসারণ সম্ভব। যার মাধ্যমে হাজারো বেকারের কর্মসংস্থান হতে পারে। এরমধ্যে উপজেলার আলতোপোল গ্রামে বিআরডিবির উদ্যোগে সামাজিক জীবিকায়ন পল্লী স্থাপণ করা হয়েছে। যেখানে শ শ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪-৮৫ অর্থ বছরে সরকারি উদ্যোগে কেশবপুরকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। জেলা বিসিকের তত্ত্বাবধানে সেসময় প্রতিজনের কাছ থেকে এক হাজার টাকা হারে তিন শতাধিক সদস্য সংগৃহীত হয়েছিল। এখানে শিল্পনগরীর জন্য স্থান নির্বাচনও হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সে স্থান খরিদ না করায় প্রস্তাবিত শিল্পনগরীর প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। এ জন্য প্রশাসনিক অন্তঃদ্বন্দ্বকে দায়ি করেছেন অনেক কর্মকর্তা।
ব্যবসায়ী হাজী রুহুল কুদ্দুস বলেন, এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় শিল্পের জন্যে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি ও উৎপন্ন পণ্য রফতানির সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকায় আঞ্চলিক উন্নয়নে ব্যাপক সহায়তা রাখবে। অবিলম্বে জায়গা নির্ধারণ করে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপণের দাবি তার।
যশোর বিসিকের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, যশোর জেলার কয়েকটি স্থানে শিল্পনগরী গড়ে তোলার প্রস্তাবনা রয়েছে। এরমধ্যে রামনগর শিল্প নগরীর কাজ এখন চলমান। যশোর-নড়াইল সড়কের হামিদপুরের শিল্পনগরীর প্রস্তাবনা বাতিল করা হয়েছে। তবে কেশবপুর শিল্প নগরী গড়ে তোলার প্রস্তাবনা অনেক আগের। কিন্তু প্রকল্পটি কী অবস্থায় রয়েছে তা কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না।