কেশবপুরে চিংড়াড আ.লীগের দু পক্ষের সংঘর্ষে এখনও উত্তেজনা,উভয়পক্ষে অর্ধশত আসামি

0

স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুরে চিংড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ছাত্রলীগের অফিস, দোকানঘর, মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় গত ৩ দিন ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। বাজারের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় গত শনিবার অধিকাংশ দোকানঘর বন্ধ ছিল। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় পৃথক মামলা দায়ের।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত ও শাহাদাৎ হোসেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হন। নির্বাচন চলাকালীন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাচনে মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এরপর থেকে চিংড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত গ্রুপ ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ এপ্রিল রাতে শাহাদাৎ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের নেতা-কর্মীরা চিংড়া বাজারের ছাত্রলীগের অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ভাঙচুর করে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ মুক্ত গ্রুপের লোকজন সংঘটিত হয়ে ওই বাজারের যুবলীগ নেতা হামিদুল ইসলামের দোকানঘরসহ চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই কেশবপুর থানা পুলিশ ও চিংড়া ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় মুহূর্তেই বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর থেকে ওই বাজারে দু গ্রুপের লোকজন দল বেধে টহল দিচ্ছে। শনিবার ওই বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দু পক্ষের টানটান উত্তেজনার কারণে অধিকাংশ দোকানঘর বন্ধ রয়েছে। বাজারে পুলিশি টহল জোরদার ছিল।
এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক আজাহারুল ইসলাম মানিক বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শাহাদাৎ হোসেন পরাজিত হওয়ার পর থেকে তার অনুসারী আহবায়ক রফিকুল ইসলাম ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অলিয়ার রহমানের লোকজন বিভিন্ন সময়ে উস্কানিমূলক কথা বলে আসছে। ২১ এপ্রিল রাতে কসাই কামরুল, সুজন গাজী, আবু সাইদের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন যুবক চিংড়া বাজারের ছাত্রলীগের অফিসে আকস্মিভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ নেত্রীর ছবি ভাঙচুর করে চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত ও আমার নাম ধরে খুঁজতে থাকে । নেত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা রটে গেলে বাজারের জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত চিংড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ১৮ জন আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
প্রতিপক্ষের আওয়ামী লীগ নেতা আজিবার রহমান জানান, চিংড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার রশিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, রশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতিভাবে যুবলীগ নেতা হামিদুল, পলাশ কবিরের ফিডের দোকানসহ চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল হামিদুল ইসলাম ২৮ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। তাদের হামিদুল, মফিদুল আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিংড়া বাজারে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ বলেন, ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্তকে আওয়ামী লীগ থেকে ও একই অপরাধে সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওলিয়ার রহমানের সাথে গাটছড়া বেধে চিংড়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারে মাঠে নামে। এই অভিয্ােগ চিংড়া বাজার কমিটির সভাপতি ও ছাত্রলীগ নেতা কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিকের।
কেশবপুর থানার এসআই গোরাচাঁদ বিশ্বাস বলেন, চিংড়া বাজার এখন শান্ত। কোন পক্ষের লোকজনকে বাজারে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। বাজারে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।