কেউ খোঁজ নেয় না যশোরের বাগদিদের, আগুন জ্বলিয়ে শীত নিবারণ তাদের

0

চুড়ামনকাটি (যশোর)সংবাদদাতা॥ যশোরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে কষ্ট বেড়েছে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির জগহাটি বাগদি (পাড়ই) সম্প্রদায়ের মানুষের। এখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস। শীত এলেই তাদের দুর্ভোগ বাড়ে।
বাগদি সম্প্রদায়ের এ মানুষেরা দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্যে সারাজীবনই সংগ্রাম করেই বেচেঁ থাকেন। সমাজের আর দশজনের মতো সব জায়গায় মিশতে পারেন না তারা। বাপ-দাদার পেশা মাছ ধরা। কিন্তু খাল -বিল সব সমাজের প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ার কারণে মাছের পরিবর্তে শামুক ও কুঁচে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। এই হাড় কাঁপানো শীতে তারা বেঁচে থাকার তাগিদে পানিতে গলা ডুবিয়ে মাছের পরির্বতে শামুক ও কুঁচে ধরে কোন রকম বেঁচে আছেন। শীতে জবুথবু এসব মানুষের ভাগ্যে জোটেনা এক টুকরা গরম কাপড়ও। খোঁজ নেয় না কেউ। খড়ে আগুন জ¦ালিয়ে আদিম যুগের মানুষের মতো তারা শীত নিবারণ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামে বসবাস করে প্রায় ২০০ টি বাগদি সম্প্রদায়ের (পাড়ই) পরিবার । তাদের সদস্য সংখ্যা ১২০০। যশোর সদর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাঁওড়টি জগহাটি গ্রামে হওয়ায় এই পরিবারগুলোর পূর্ব পুরুষরা বহু বছর আগ থেকে এখানে তাদের বসবাস শুরু করে। তাদের আয়ের প্রধান আয়ের উৎস ছিল জগহাটি বাঁওড়সহ এলাকার বিভিন্ন খাল- বিলের মাছ। তাইতো জগহাটি গ্রামের বাঁওড়ের পাড়ে এই পরিবারগুলো তাদের বসবাসের জন্যে ছোট ছোট কুড়ে ঘর তৈরি সেখানেই যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। এক সময় তারা এই বাঁওড় থেকে মাছ ধরে এলাকার বিভিন্ন হাট- বাজারে বিক্রি করে ভালভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এ বাঁওড়ে এখন আর তারা মাছ ধরতে পারেন না। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে তারা আদি পেশা মাছ ধরা ছেড়ে শামুক ও কুঁচে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
হরবালা (৬৫)নামের এক নারী বলেন, সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়না।
হারান (৭০) জানান, বাঁওড়পাড়ে আমরা ছিন্নভিন্নভাবে খড়ের ঘর তৈরি করে বসবাস করি।যা শীতের সময় বসবাসের যোগ্য না। শীতে আমাদের শিশুসহ বৃদ্ধদের নিয়ে কষ্ট বেশি হয়।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতে এই হাড় কাঁপানো শীতে ঘুমানোর পরিবর্তে খড়ে আগুন জ্বালিয়ে রাত জেগে থাকতে হয় ।
এখানকার অধিবাসী মালতি রানী জানান, শীত নিবারণের জন্যে আগুন জ্বালিয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে শীতে রীতিমত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকি ।
সাংবাদিক শুনে একাধিক ব্যক্তি বলেন, পত্রিকায় লিখে কী লাভ? বহুবার তো লিখলেন। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোন পরির্বতন হয়নি।