কুষ্টিয়ায় কবরস্থান থেকে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

0
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিহত আলোচিত পীর শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে নিজস্ব দরবারে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে ভক্তদের বিরুদ্ধে।। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গণপিটুনিতে নিহত আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তাঁর নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে ভক্তদের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার পারিবারিক বা স্থানীয় কবরস্থান থেকে কঙ্কালসদৃশ অবশেষটি সরিয়ে নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলে নেওয়ার পর তা ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিষয়ে নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, “সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

সংবাদ পেয়ে শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি খালেদুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে এবং দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা প্রয়োজনীয় আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি প্রমাণিত হলে মরদেহ পুনরায় আগের কবরেই স্থানান্তর করা হবে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিনই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।