কানাডায় পাঠানোর নামে ৮০ লাখ টাকা প্রতারণা, ঝিকরগাছায় ৫ পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

0
ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত খন্দকার আনিছুর রহমান এবং পাশে বিষণ্ণ মুখে বসে আছেন অন্য ভুক্তভোগীরা।। ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়া এবং কাপড় ব্যবসায় মোটা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচটি পরিবারের কাছ থেকে মোট ৮০ লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খন্দকার হামিদুর রশিদ সোহেল ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সেতুর বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী খন্দকার আনিছুর রহমান।

যেভাবে ফাঁদ পাতা হয়

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সোহেল দাবি করতেন কানাডায় তার মা ও নিকট আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এই পরিচয় তুলে ধরে পাঁচ ব্যক্তিকে কানাডায় পাঠিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি ও তার স্ত্রী। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক ব্যবসায় মোটা মুনাফার প্রলোভন দেখিয়েও অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগী ও তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ: পুরন্দরপুর গ্রামের সুমন হোসেন ১৪ লাখ ২৫ হাজার, মল্লিকপুর গ্রামের সাগর হোসেন ১৪ লাখ ৮০ হাজার, হাজের আলী গ্রামের রফিকুল ইসলাম নগদ ১২ লাখ ৪৫ হাজার ও চেকে ১৩ লাখ, আরমান হোসেন নগদ ১৬ লাখ এবং পারবাজার এলাকার আনিছুর রহমান কাপড় ব্যবসার নামে ১৬ লাখ টাকা দেন।

নগদ অর্থের পাশাপাশি ঢাকাস্থ কানাডিয়ান দূতাবাসে ব্যাংক সলভেন্সি দেখানোর কথা বলে সুমন, সাগর ও রফিকুলের কাছ থেকে তিনটি করে স্বাক্ষরিত সাদা ব্ল্যাংক চেকও নেওয়া হয়। পরে দেওয়া ভিসার কাগজপত্র যাচাইয়ে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

টাকা চাইতে গিয়ে মামলার হুমকি

প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত দম্পতি আত্মগোপন করেন। ভুক্তভোগীরা নড়াইল জেলার উড়ানী মধ্যপল্লীতে তাদের প্রকৃত ঠিকানায় গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। এমনকি আগাম নেওয়া সাদা চেক ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তের ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্টে (নং ১৬৩১০১০০৭৮৫৭৬, যশোর ও ঝিকরগাছা শাখা) টাকা জমা দেওয়ার মানি রিসিট, নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে এফিডেভিট করা চুক্তিনামাসহ অন্যান্য প্রমাণপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে (জিডি নং ৪৪৬, তারিখ ১১/০৫/২৬)। সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত হামিদুর রশিদের দুটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।