করোনাকালের ওষুধ আটকে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগে বিতরণের তোড়জোড়

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে স্টোরে পড়ে থাকা ওষুধ ব্যয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। ওয়ার্ডে অধিক পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করে তা দ্রুত খরচ করার জন্যে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। সারা বছর রোগীদের ওষুধ কম দিয়ে শেষ সময়ে দায়মুক্ত হতে এ কৌশলের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালে যখন করোনার প্রভাব বেশি ছিল তখন সরকারি ও বেসরকারিভাবে হাসপাতালে প্রচুর চিকিৎসা উপকরণ প্রদান করা হয়। এর ভেতর ২০২০ সালে দেয়া হয় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার ওষুধসহ চিকিৎসা উপকরণ। কিন্তু বরাদ্দকৃত এসব উপকরণ কতটুকু সে সময় ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে জার্মক্লিলার নামে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হয়েছে অনেক আগে।। ঢাকার আজাদ কেমিক্যালের তৈরি ২৫০ মিলিলিটারের এ হ্যান্ড স্যানিটারের মূল্য ২শ ৫০ টাকা। ২০২১ সালের মার্চ হতে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মেয়াদ ছিল। গত ৩১ মার্চ মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ উপকরণ দ্রুত ব্যবহার করার জন্যে হাসপাতালে প্রতিটি ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবহারের যথাযথ জায়গা না থাকায় তা যত্রতত্র অযথা ব্যয় করা হচ্ছে। একইভাবে রোগীদের জন্যে দেয়া হয়েছে হাইসোমাইড ইনজেকশন, সিপ্রোসিন ট্যাবলেট, সিপ্রোসিন ১ গ্রাম ইনজেকশন, সিপ্রোসিন ইনজেকশন ও কটসোন ইনজেকশন । এসব ওষুধের মধ্যে কিছুর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবার কিছু শেষ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় স্টোর থেকে চাহিদার অতিরিক্ত ওষুধ দেয়া হচ্ছে ওয়ার্ডে সেবিকা ইনচার্জের কাছে। যাতে এসব ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খরচ করতে না পারলে দায়ভার সেবিকাদের ওপর বর্তায়। এ দায়ভার এড়াতে তারা স্টোর থেকে যে ওষুধ ও উপকরণ নিয়েছেন তার কিছু ভেঙ্গে নষ্ট করে ফেলছেন। কিংবা কাউকে বিতরণ করে দায়মুক্ত হচ্ছেন আর রোগীর নামে খরচ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা চলছে। ২০২০ সাল থেকে হাসপাতালে দেয়া এসব ওঠুধ ও উপকরণের সঠিক তদন্ত হলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসবে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।