ইকুয়েডরের জালে দুই গোল দিয়ে ৮ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্বাগতিক মেক্সিকো

0
স্বাগতিক মেক্সিকোর দুর্দান্ত জয়! ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মেক্সিকো।। ছবি: সংগৃহীত
ঘরের মাঠের চেনা দর্শকদের মুখে হাসি ফোটাতে যা করার, তা প্রথমার্ধেই সেরে রেখেছিল স্বাগতিক মেক্সিকো। ম্যাচের প্রথমার্ধে করা দুই গোলের ওপর ভর করে দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে উত্তর আমেরিকার এই দেশটি। মেক্সিকানরা এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। ষষ্ঠ মিনিটে একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন মেক্সিকোর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। তবে সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচের ২২ মিনিটেই স্বাগতিকদের লিড এনে দেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস।

এর ঠিক ৯ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩১ মিনিটে ১০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন ৩৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। তাঁর এই গোলেই মূলত ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মেক্সিকোর হাতে।

বিপরীতে ১৮ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেলেও ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়ার শট গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসলে তা ভাগ্যের পরিহাসে পরিণত হয়। এরপর ৪০ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ইকুয়েডরের আক্রমণ মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রানহেল দারুণ ক্ষিপ্রতায় নসাৎ করে দিলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইকুয়েডর।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে সেজার মন্তেসের শট এক হাতে সেভ করে ইকুয়েডরকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন তাদের কিপার এরনান গালিন্দেজ। ম্যাচের ৯০ মিনিটে মেক্সিকোর ফরোয়ার্ডরা তালগোল না পাকালে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। শেষ দিকে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে তৈরি হয় নতুন এক বিতর্ক। ফুটবলের নতুন ‘ভিনি আইনে’ হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কিছু বলার অপরাধে ভিএআর (VAR) রিভিউ দেখে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়েকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নতুন আইনে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখার নজির গড়লেন তিনি। এর আগে এই নিয়মে প্রথম লাল কার্ড পেয়েছিলেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন।