ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে মনিরামপুরের পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর)॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা প্রতিনিয়ত এলাকায় দলবদ্ধ হয়ে মহড়াসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ এলাকাবাসী।
সূত্রমতে, নির্বাচন কমিশনারের ঘোষনা অনুযায়ী বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্্র করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা আবারও এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। এলাকায় ফিরে তারা প্রকাশ্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে পড়েছে। ওই সকল সন্ত্রাসীদের নির্বাচনী প্রচারনায় দেখে চরম আতংকের মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ এলাকার সাধারণ ভোটাররা। স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সচেতন মহলের দাবী, পুলিশ এই মুহূর্তে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের আটক করতে না পারলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তি পূর্ণভাবে হবে না। ফলে দ্রুত এসকল সন্ত্রাসীদের আটকের দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সচেতন মহলের। এদিকে আতংক মাথায় নিয়ে উপজেলার ঝাঁপা, খেদাপাড়া, চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর ও রোহিতা ইউনিয়নে প্রচারপ্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীরা। তাদের এই ব্যস্ততার মাঝে একটি আতংক নতুন করে যোগ হয়েছে । সেটি হলো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসা। এসকল সন্ত্রাসীদের উল্লেখিত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি। তারা এলাকায় এসে অর্থের বিনিময়ে যোগ্য প্রার্থীকে পাশ কাটিয়ে অযোগ্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে নতুন করে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে উল্লেখিত ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ ইউনিয়ন হলো ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, খেদাপাড়া ও চালুয়াহাটি ইউনিয়ন। এবারের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে এ ইউনিয়নগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে একই রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। ফলে আগামী ২৮নভেম্বর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনিরামপুরের পশ্চিমাঞ্চলে আরো বড় ধরণের গোলযোগের আশংকা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সাধারন ভোটাররা। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামে গ্রামে দলীয় ক্যাডার ও পেশাদার সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নিজেদের পেশিশক্তি বাড়াতে কারাবন্দি দাগি আসামীদের মোটা অংকের অর্থ খরচ করে জামিনে ছাড়িয়ে আনছেন এবং তাদের হাতে অবৈধ অস্ত্র ও তুলে দিচ্ছেন বলে একাধিক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।