আ.লীগ ক্ষমতায় আসার পর খেলাপি ঋণ হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি : ওয়ার্কার্স পার্টি

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ ‘নয়া উদারবাদ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বুর্জোয়া বিপ্লবে পুঁজিবাদের অবাধ প্রতিযোগিতা আত্মবিধ্বংসী হয়ে ওঠো অবাধ প্রতিযোগিতায় সমাজের তথাকথিত সর্বোচ্চ শক্তিশালীদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আজকের নয়া উদারবাদ অষ্টাদশ শতকের কাসিক্যাল উদারবাদেরই নবতর রূপ। যা ওই উদারবাদের চেয়ে বহুগুণ আগ্রাসী, যার ফলে দেশে বৈষম্য-অসমতা প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে। উন্নয়নশীল বহু দেশে উদারবাদের যুগে দারিদ্র বেড়েছে। নয়া উদারবাদ গণতন্ত্র বিকাশের সহায়ক না হয়ে দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উদারবাদে কর্পোরেট দুর্ন্যীতি বৃদ্ধি, করেছে। এ উদারবাদে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ঋণ অনেক দেশের আর্থিক ভঙ্গুরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ করতে গিয়ে দেশে মহা বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল যশোর প্রেসকাবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) যশোর জেলা শাখা এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সুন্দরবন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরারুল হক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭২ সালে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রীয় খাতে জাতীয় সম্পদের বিপুল সমাবেশ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার করা হয়েছিল। কিছুদিন পরে রাষ্ট্রয়ত্ব কলকারখানা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি ও ব্যাংকগুলোর পুঁজি লুন্ঠনের সমঝোতায় আবদ্ধ হয়ে ব্রিফকেসধারী নব্য ও ব্যাংকাররা। ১৯৭৩ সাল থেকে লাগামহীন দুর্নীতি শুরু হয়। দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা পুঁজিপতি বনে গিয়ে তারা প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে। পুঁজিবাদের বিশ্ব হোতা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে এসব নব্য পুঁজিপতির সখ্য গড়ে ওঠে। এরপর ৭৫-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পাইপ লাইনে ধারা অব্যাহত থাকে। শুরু হয় পুঁজিবাদের বিকাশ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ২ কোটি ৪১ লাখ হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪শ’ ৮১ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালে জুন মাসের শেষে এসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২শ’ ৮৮ কোটি টাকায়। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
আলোচনায় অংশ নেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মফিজুর রহমান রুনু, সিপিবি নেত্রী বিথিকা বিশ্বাস, উপশহর ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পরিতোষ কুমার ও ড. সায়েম। ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কবাদী) যশোর জেলা শাখার সভপতি কমরেড নাজিম উদ্দিন সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু।