আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

0
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ: বিশ্বনবীর আদর্শ অনুসরণের আকুল আহ্বান ।। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বনবীর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিময় দিন

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন আজ ১২ রবিউল আউয়াল। সারা বিশ্বের মুসলমানদের ন্যায় বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও গভীর আবেগ, ভক্তি ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এ দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করছেন।

শান্তির বার্তা নিয়ে ধরণীতে আগমন

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন এক আল্লাহর তাওহিদের মহান বাণী নিয়ে এবং মানুষের কাছে প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তাঁর শুভ আবির্ভাব এবং ইসলামের সাম্য ও শান্তির বাণীর সর্বজনীন প্রচার সারা বিশ্বে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

আইয়ামে জাহেলিয়া ও ‘আল-আমিন’ উপাধি

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন আরব সমাজ পৌত্তলিকতা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় হিংসা, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল—যা ইতিহাসে ‘আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ’ নামে পরিচিত। মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ তাঁকে পাঠিয়েছিলেন।

মহানবী (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ ও মা আমিনা। জন্মের আগেই তিনি বাবাকে হারান এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে মাতৃহারা হন। কিন্তু এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর চরিত্রের সততা, আমানতদারি, সংযম ও মানবিকতার শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে, যা তাঁকে সমাজজুড়ে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে পরিচিত করে তোলে। বিনয়, সহিষ্ণুতা, দয়া ও সহমর্মিতাসহ সব মানবিক গুণের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটেছিল তাঁর মধ্যে।

নবুওয়াত লাভ ও হিজরতের প্রেক্ষাপট

৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় মহানবী (সা.)–এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল করেন মহান আল্লাহ। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান এবং অন্যায়, জুলুম, শোষণ, মিথ্যা ও বৈষম্য পরিহারের শিক্ষা দেন। মক্কার জীবনে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে অবশেষে আল্লাহর নির্দেশে মদিনায় হিজরত করেন। নবুওয়াতের ২৩ বছর ধরে তিনি মানুষকে সত্যের পথে ডেকে ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল এক গভীর শোকের মুহূর্ত।

রাষ্ট্রপতির বাণী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতায় বিপর্যস্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততোধিক প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

একই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে এক বাণীতে বলেন, “মহানবী (সা.) এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

দেশজুড়ে পালন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দান-খয়রাত এবং নফল রোজাসহ নানা ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। দিবসটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে।

গতকাল বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে মাহফিল, সেমিনার, কবিতাপাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বায়তুল মোকাররম চত্বরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বইমেলা।