আগেই ফেরির রুট পরিবর্তন করা উচিত ছিল : মির্জা ফখরুল

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ধাক্কার ঘটনা রোধে আগেই ফেরির রুট পরিবর্তন করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুক্রবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা কমনসেন্সের ব্যাপার। ফেরি চালাতে পারছে না, এখন তীব্র স্রোত পদ্মায়। এটা তো আর ছোটখাটো নদী নয়। সেই পদ্মার স্রোতে এ ধরনের ফেরি কিছুটা ডাইভারটেড হবেই। ওখান থেকে রুটটা সরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা- এটাই তো উচিত ছিল।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওদের (সরকার) আবার সুবিধা আছে। ভেঙে অবশ্যই নতুন করে ফেরিঘাট বানানোর চেষ্টা করবে। অনেক টাকা জোগাড় করার সুযোগ পাবে। হ্যাঁ, আপনার এই যে বুড়িগঙ্গার ওপর প্রথম ব্রিজ যেটা, ওটা নাকি জাহাজ যাওয়ার সময় ভেঙে গেছে। এখন নাকি আবার রিপ্লেস করা হবে। আবার কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রজক্ট হবে। এ রকম প্রজেক্টই ওদের দরকার।’ শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ৭টার দিকে বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে কাকলি নামে একটি ফেরি পিলারটিতে ধাক্কা দেয়। এর আগে গত ৯ আগস্ট ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ ও গত ২৩ জুলাই আরেকটি ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত করে। বারবার পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কার বিষয়টিতে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওনারা তো এটাই দেখবেন (হাসতে হাসতে)। রানা প্লাজার ঘটনা আপনাদের মনে থাকার কথা। তখন মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাহেবের মতো একজন শিক্ষিত মানুষ বললেন যে, বিএনপি নাকি ঝাঁকুনি নিয়ে রানাপ্লাজাকে ফেলে দিয়েছে। এটা হচ্ছে তারা তো বিভিন্নভাবে…।’
পদ্মা সেতুর ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর একেবারে প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিডিও তৈরির জন্য ১৩৫ কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট দিয়েছে। টাকা তো এখানে আসতেছে গৌরিসেন থেকে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনাদের এক পত্রিকায়ই দেখলাম ফুলছড়ি ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট আবার চালু করার জন্য ১৩৫ কোটি টাকা অলরেডি খরচ হয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, জাহাজ আর চলে না, নাব্য নেই নদীর, সেজন্য চলছে না।’ গত ১২ আগস্ট আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় আইনমন্ত্রী ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে জড়ানোর হীন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভা মনে করে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইতিহাসকে বিকৃত ও নিকৃষ্ট মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এ ধরনের অপপ্রচার প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার একটা অপচেষ্টা মাত্র। সভায় এ ধরনের নিকৃষ্ট মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।’