প্রধানমন্ত্রীর জনগণের দরকার পড়ে না, বেনজীর আজিজদের মত কিছু লোকের দরকার পড়ে ; রুহুল কবির রিজভী

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা শয়নে স্বপনে প্রতিনিয়ত জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অনেক বাজে কথা বলছেন। অপপ্রচার করছেন বিদ্বেষ পোষণ করছেন। তিনি হিংসার বহিপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। তিনি একটি ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন করেছেন, তার ভোট লাগে না , নির্বাচন লাগে না, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যায় না। উনি নিজে নিজেই প্রধানমন্ত্রী। তার বেনজীরের মতো কিছু লোক দরকার পড়ে, জেনারেল আজিজের মতো কিছু লোক দরকার পড়ে। জনগণ তার দরকারে লাগে না।’
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৩ শাহাদত বার্ষিকীতে জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রনায়ক জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন । সোমবার বিকেলে স্থানীয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনা সভায় অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যান ওয়ান ইলেভেন ঘটিয়ে শেখ হাসিনার চিরস্থায়ী ক্ষমতায় রাখতে কাজ করছে প্রতিবেশী দেশ। ডামি নির্বাচনে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে পৃথিবীর কোনো দেশ যখন স্বীকৃতি দেয় না, পার্শ্ববর্র্তী দেশ তখন স্বীকৃতি দেয়। আজকে দেশের মানুষের কথা বলা ও স্বাধীনভাবে চলার অধিকার, তাদের ভোট দানের অধিকার নেই। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনকে দেশান্তরিত করা হয়েছে। এটার জন্য ভারতের কিছু যায় আসে না। সরকারের মধ্যে দেশপ্রেম বলতে কিছু নেই। আওয়ামী সরকার দেশপ্রেমের ধার ধারে না, ওদের বড় বড় প্রজেক্ট আর টাকা দরকার। প্রজেক্ট আর টাকা দিয়ে নিজেদের লোককে সম্পদশালী করায় তাদের লক্ষ্য।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যে ব্যক্তি বারবার ভোটার বিহীন ভোট কিংবা নিশিরাতে ভোটের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। তার দুর্নীতির কথাগুলো এখন আসছে কেন ? কোথাও কোনো ভাগ বাটোয়ারায় গরমিল হয়েছে, কোথাও কোনো সমস্যা হয়েছে। যে কারণে বেনজীরের দুর্নীতির বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। এখন শোনা যাচ্ছে উনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, এটা সরকারের কেউ জানে না। যার নামে এত কীর্তি এত ঘটনা উঠছে সে দেশ ছেড়ে চলে গেল, আপনার সরকার কিছুই জানলো না, এটা কিভাবে সম্ভব? বিএনপির লোক আন্দোলন কর্মসূচির পরে যদি বাঁশঝাড়ে পুকুরের পাড়ে কলাক্ষেতে আশ্রয় নেয়, সেখানে পুলিশ গিয়ে তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। আর এক ব্যক্তি একদিনে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে, তার অ্যাকাউন্ট খালি করে দেশে ছেড়ে চলে গেলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানে না, ওবায়দুল কাদের জানে না, পুলিশ প্রশাসন জানে না, উনি কিভাবে চলে গেলেন? উনি (বেনজীর আহমেদ) ভারতে গিয়ে গঙ্গা নদীতে ইলিশ মাছ ধরছে , নাকি আটলান্টিকে গিয়ে তেলাপিয়া মাছ ধরছে এটা সরকার জানে না?
প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে শয়নে স্বপনে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার বিষোদাগার করেন। তাতে জনগণের কিছু আসে যায় না। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আপনি প্রধানমন্ত্রী অস্বীকার করতে পারেন, আপনার স্বামী তো অস্বীকার করেনি। আপনার সরকারের মন্ত্রী মেজর রফিকুল ইসলাম, এ কে খন্দকার, আপনার সরকারের এমপি মেজর জেনারেল সুবেদ আলী ভুইয়া তিনিও অস্বীকার করেননি। তারা তো ঠিকই তাদের বইয়ে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষক। সুতরাং আপনি( প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) না বললে কি হবে, আপনি তো মুক্তিযুদ্ধে যাননি । এমনকি আপনার স্বামী তখন বয়সে তরুণ তাকেও মুক্তিযুদ্ধে যেতে দেননি। আপনি মুক্তিযুদ্ধ একটা মার্কেটিং হিসেবে ধরেছেন। আপনি মার্কেটিং করার জন্য এবং নিজে মুক্তিযুদ্ধের লোক এটাকে প্রচার করার জন্য আপনি মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ করেন। পারিবারিক ভাবে রাজাকারের দুর্নাম ঘোচাতে আপনার দলের অনেকে ছাত্রলীগ করে, এখন তারা জাতীয় পর্বে গুরুত্বপূর্ণ পদেও আছে। সুতারাং শেখ হাসিনাও একই, ৭১-এ উনার কোনো ভূমিকা নেই। উনি স্বামীকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে যেতে পারতেন। বরং এটা শুনেছি সেদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আপনার পরিবার ভাতা পেত। এজন্য ক্ষোভ বিদ্বেষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, সেক্টর কমান্ডার, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম প্রতিরোধকারী জিয়াউর রহামনের বিরুদ্ধে আপনার এতো অপপ্রচার।
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর পিতা এদেশের জমিদার, সে জমিদার কন্যা, উনি ছাড়া বাংলাদেশে আর কেউ রাজনীতি করবে না । এ ধরনের একটি জিঘাংসা , বিদ্বেষ ও আধিপত্যমূলক মনোভাব থেকে তাদের যত ভাবনা চিন্তা। ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৈরি হয়েছে বিএনপি, জিয়াউর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিএনপি তৈরি করেছেন। ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আপনার যদি মনে না থাকে, তাহলে আপনার ডানে বামে বসে ওবায়দুল কাদের, হাসান মাহমুদ, তোফায়েল আহমেদের কাছে জিজ্ঞেস করেন, ১৯৭৮ সালের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী জোটের প্রার্থী ছিলেন জিয়াউর রহমান। আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন কর্নেল ওসামানী। তখন আপনি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার কাছে স্মরণাপন্ন হলেন, দলের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন দিলেন, তখন লজ্জা হয়নি। তখন কি ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে এসেছিলেন? তখন স্মরণাপন্ন হওয়া যায়, আর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এদেশের ক্ষমতার পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন এটাই কি তার অপরাধ?
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে কোনো রাজনৈতিক দল বন্ধ করেননি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন, যেটা আপনার পিতা ( প্রধানমন্ত্রীর পিতা) দেননি, আপনি দিচ্ছেন না। হেরে যাওয়ার ভয়ে আপনি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিচ্ছেন না। আজকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক দলকে কথা বলতে হয়। আবার সংবাদপত্রগুলো সবকথা ছাপাতে পারে না, ছাপাতে ভয় পায়। বিশ্বের ভিন্ন দেশ বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর যে ইনডেক্স তৈরি করে। সেখানে তারা তুলে ধরছে বাংলাদেশে গণমাধ্যমে স্বাধীনতা কতটা নিচে অবস্থান করছে। অনেক মুক্ত মনের সাংবাদিক আজ সরকারের তৈরি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেড়াজালে কারাবন্দী আছেন। কেবলমাত্র সত্য কিংবা মুক্ত মনে লেখার কারণে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অতি অল্প সময়ে দেশের জন্য যে অবদান রেখে গেছেন। তার বর্ণনা করা বেশ কঠিন। যারা জনগণ, সততা, ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেন তারা অল্প সময়ে অনেক কিছু করতে পারেন। জোর করে তাদের ক্ষমতা নিতে হয় না, জোর করে তাদের ক্ষমতায় রাখা যায় না। তিনি জাতির পাওয়া এক বড় সম্পদ।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ( খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্পু, সহ- ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী, অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আবুল হোসেন আজাদ , সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি প্রমুখ।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন সভা পরিচালনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য মো. মুসা,অ্যাড. মো. ইসহক, মিজানুর রহমান খান, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, কাজী আজম, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।