অভয়নগরে স্কুলে না গিয়েই তিন বছর বেতন তুলছেন শিক্ষিকা!

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর)॥ অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের ইছামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদা দীর্ঘদিন স্কুলে যান না। কিন্তু নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কানিজ মুর্শিদা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তবে মাঝেমধ্যে এসে হাজিরা খাতায় একসঙ্গে সই করে যেতেন তিনি। এ ছাড়া প্রতিমাসের বেতনের রিটার্ন শিটেও তিনি নিয়মিত সই করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই কানিজ মুর্শিদা অনিয়মিতভাবে স্কুলে আসেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি কার্যত বিদ্যালয়ে না এসেই বেতনের টাকা তুলে নিচ্ছেন। বেতনের টাকা থেকে ঊর্ধতন কর্মকর্তদেরও ভাগ দিতে হয়। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সমাপ্তি ও তাজমিনসহ অনেক শিক্ষার্থী ওই শিক্ষিকাকে চেনে না বলে জানায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্যান্য স্কুলের একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতি তিনমাস অন্তর সাব ক্লাস্টারে কানিস মুর্শিদা অনুপস্থিত থাকলেও তার নামের বরাদ্দ সম্মানি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত দেখিয়ে টাকা তুলে নেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিলা বৈরাগী জানান, কানিজ মুর্শিদা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলেও প্রতি মাসেই তিনি বেতন পেয়ে থাকেন।

প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বলেন, আমি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের চাপে এ কাজ করেছি। কাজটি অবশ্যই অন্যায় হয়েছে। না করলেও চাকরি করা দায় হয়ে পড়ে। তার শ্রেণি কার্যক্রম আমরা চালিয়ে নিই।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদার সাথে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ওই নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা দিলেও তিনি উত্তর দেননি।

সাবেক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সজ্ঞয় কুমার দাস বলেন, আমি অনৈতিক কোন কর্মকান্ডে জড়িত নই। আমি প্রধান শিক্ষককে কখনো চাপ দেইনি।

বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমি ঘটনা জানার পর ওই স্কুলে গিয়েছিলাম। স্কুলে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাইনি। তবে যতদূর জেনেছি তিনি দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত। তাকে শোকজ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওলিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি এখানে ৫ মাস আগে যোগদান করেছি। বিষয়টি জানার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে দেখার দায়িত্ব দিই। তদন্ত করে উনি ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা কর্মকর্মকে অবহিত করেছি। বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখছেন।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জি এম আলমগীর কবির বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি গত ৯ জুন ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।