অভয়নগরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কোথায় ?

0

/২
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পনের বছরেরও অধিক সময় বাংলাদেশের কাঁধে চেপে থাকে স্বৈরাচার। দেশজুড়ে চলতে থাকে বিরোধীমতের মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন। খুন,গুম,হত্যা। অর্থ লুটপাটসহ শোষণ-লুটপাট চলে সমানতালে। দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যায়।
চলতি বছরের জুলাই মাসে সাধারণের ভেতর তিলে তিলে জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ৫ আগস্ট পতন হয় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের। পতনের আগে স্বৈরাচারের দোসর আওয়ামী লীগ সাধারণের ওপর অত্যাচার- নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়। জুলাই মাসে চলে গণহত্যা। এ গণহত্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ- সংগঠন অংশ নেয়। নতুন করে জন্ম নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। দেশজুড়ে চলে হামলা। যশোরের অভয়নগর উপজেলার এর ব্যতিক্রম না। এখানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমাতে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন।
অভয়নগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈম উদ্দিন বিজয় দৈনিক লোকসমাজকে জানান, ১৮ জুলাই এখানে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ হয়। এ বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নওয়াপাড়া শিল্প শহরের স্বাধীনতা চত্বরে পৌঁছুলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্ত, সাধারণ সম্পাদক রুম্মন ফারাজী ও অর্ক বিশ্বাসের নেতৃত্বে তাতে হামলা হয়। দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলাকারীরা। রাম দা, চাইনিজ কুড়ালসহ নানা অস্ত্র ব্যবহার করে তারা। হামলায় আহত হন স্থানীয় সাংবাদিক ওসামাসহ ১০-১২জন। তাদেরকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ৩ আগস্ট পায়রা বাজারে বিক্ষোভকারীরা ফের হামলার শিকার হন। বিক্ষোভের ওপর ৪ ও ৫ আগস্টও হামলা হয়। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয়। এসব হামলায় নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা ও নওয়াপাড়া পৌরসভার ওই সময়কার মেয়র সুশান্ত কুমার দাস শান্ত ও শ্রমিক লীগ নেতা রবীন অধিকারী ব্যাচা।
ছাত্রদল নেতা নাঈম উদ্দিন বিজয়সহ অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিরোধী মত দমাতে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রচুর অস্ত্র ব্যবহার করে। কিন্তু তা এখনো উদ্ধার হয়নি।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমাদুল করিম দৈনিক লোকসমাজকে জানান, তিনি নতুন এসেছেন। হাসিনা সরকার পতনের পর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কিনা তা দেখে বলতে পারবো। তবে আমি আসার পর বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার পতনের পর ওরা অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে।