অভিযানের দুদিন পরও মামলা হয়নি ভেজাল সার উৎপাদনকারী রাজুর বিরুদ্ধে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অভিযানের দুইদিন পার হলেও যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আলোচিত ভেজাল সার উৎপাদনকারী রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে মামলার প্রস্তুতি চলছে। গেল বুধবার (১৩ ডিসেম্বর ) মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার এআর এগ্রো কেমিক্যাল নামের ওই ভেজাল সার কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ( সার ব্যবস্থাপনা) আমিনুল ইসলাম।
একাধিক গোপন সূত্র থেকে জানা যায়,২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে রাজু আহমেদ এআর এগ্রো কেমিকেল নামের একটি সার কারখানা গড়ে তোলে। সেই থেকে ভেজাল সার উৎপাদন করে পাহাড় সমান অর্থসম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। বুধবার গভীর রাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) মোঃ আমিনুল ইসলামের অভিযানের জালে আটকা পড়েন রাজু আহমেদ। অভিযানের সংবাদ পেয়েই অভিযুক্ত আগেই পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে জিংক সালফেট মনোহাইড্রেটের আকৃতির ৪শ’ মেট্রিক টন ভেজাল দানাদার সার জব্দ করে। এ সময় ভেজাল কারাখানাসহ তিন গুদাম সিলগালা করে দেয়া হয়। অভিযানকালে ভেজাল সার তৈরির কয়েকজন কারিগরকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ওই গ্রামের মশিয়ার রহমানের পুত্র।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, সেখান থেকে জব্দকৃত ভেজাল সার পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর অভিযুক্ত রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। অভিযানে থাকা কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) পলাশ বিশ্বাস বলেন, এখনো মামলা দায়ের হয়নি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলেছে জব্দ করা ভেজাল সার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা এজাহার দায়ের করবেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার ছাত্রছায়ায় থেকে রাজু আহমেদ ১৫ বছর যাবত ভেজাল সার উৎপাদন করে শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন । যশোর শহরে তার বিলাস বহুল দুটি বাড়ি রয়েছে। ঘুরুলিয়া গ্রামে একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। রয়েছে দামি প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন মৌজায় নামে বেনামে জমি । এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায় তার অংশিদারিত্ব রয়েছে।