অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি মামলায় অভিযুক্ত ৫ ‘ভুয়া র‌্যাব’

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে র‌্যাব পরিচয়ে নাদেরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান আক্কাস আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের আব্দুল আলিমের ছেলে আবুল হাসান (৩৪), আবুল কালামের ছেলে ফারদিন হোসেন ফাহিম (২২), খন্দকার রবিউল ইসলাম মনির ছেলে খন্দকার মুক্তাকিন হোসেন রক্সি (২৬), ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের জাহিদুল ইসলামের ছেলে ইসরাতুল ইসলাম প্রান্ত (২৩) ও বাঘারপাড়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোল্লা রফির ছেলে বর্তমানে যশোর শহরতলীর শেখহাটি মিয়াবাড়ি মোড় এলাকার জনৈক মিজানুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া সবুজ মোল্লা ওরফে হুরাইয়া (২৭)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাদেরুজ্জামানের বাড়ি চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা গ্রামে। বর্তমানে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে যশোর শহরের উপশহর কলেজের পেছনের জনৈক আবু বক্করের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার ছেলে শাওন হোসেন চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা বাজারে ইন্টারনেটের ব্যবসা করেন। চলতি বছরের ২৯ মার্চ বিকেলে কতিপয় ব্যক্তি র‌্যাব পরিচয়ে তাদের যশোর উপশহরের ভাড়া বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি এবং গামছা দিয়ে নাদেরুজ্জামানের চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। এরপর নাদেরুজ্জামানের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে তার স্ত্রী সেফালী বেগমের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে স্বামীর মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন র‌্যাব পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা। নইলে নাদেরুজ্জামানকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি সেফালী বেগম তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোন করে ছেলে শাওন হোসেনকে জানান। এ খবর পেয়ে দ্রুত উপশহরের বাসায় চলে আসেন শাওন হোসেন। পরে তিনি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তির কথা অনুযায়ী মণিহার মোড়ে যান। এ সময় র‌্যাব পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে আবুল হাসান নামে একজন মণিহার মোড়ে এসে সেখান থেকে শাওন হোসেনকে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে যান। সেখানে নাদেরুজ্জামানকে আটকে রাখা হয়েছিলো। ওই ব্যক্তিরা শাওন হোসেনের কাছ থেকে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা নেওয়ার পর মুক্তিণের আরও টাকা দাবি করেন। বিষয়টি শাওন হোসেনের সন্দেহ হলে তিনি কৌশলে ডিবি পুলিশকে অবহিত করেন এবং সেখান থেকে চলে আসেন। পরে র‌্যাব পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা শাওন হোসেনকে পালবাড়ি কাঁচা বাজার রোডের জনৈক তপন দেবনাথের দোকানের সামনে যেতে বলেন। তাৎক্ষণিক তিনি ডিবি পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর ডিবি পুলিশের একটি টিম ওইদিন সন্ধ্যায় পালবাড়ি কাঁচা বাজার রোডের তপন দেবনাথের দোকানের সামনে অভিযান চালান। এ সময় র‌্যাব পরিচয়দানকারী দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশ সেখান থেকে আবুল হাসান, ফারদিন হোসেন ফাহিম, ইসলাতুল ইসলাম প্রান্ত ও সবুজ মোল্লা ওরফে হুরাইয়াকে আটক এবং তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে নাদেরুজ্জামানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে কৌশলে পালিয়ে যান তাদের সহযোগী খন্দকার মুক্তাকিন হোসেন রক্সি। এ ঘটনায় শাওন হোসেন কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলার তদন্ত শেষে উল্লিখিত ৫ জনকে অভিযুক্ত করে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ।