যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সোমালি বিশ্বকাপ রেফারিকে

এ ঘটনায় দেশটির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে

0
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সোমালি বিশ্বকাপ রেফারিকে
মরক্কোর রাবাতে সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পেনাল্টির সংকেত দিচ্ছেন সোমালি রেফারি ওমর আরতান। [এপি]

স্পোর্টস ডেস্ক, লোকসমাজ : ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে প্রবেশাধিকার পাননি সোমালিয়ার শীর্ষ ফুটবল রেফারি ওমর আরতান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। এ ঘটনায় দেশটির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিএইচএস জানায়, গত শনিবার দক্ষিণ ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘নিরাপত্তা যাচাই-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।’
তবে আরতানের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্রমণের আগে তার বৈধ ভিসা ছিল।
ফিফার তালিকাভুক্ত ৫২ জন বিশ্বকাপ রেফারির একজন ওমর আরতান। তিনি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ পরিচালনা করা প্রথম সোমালি রেফারি হওয়ার পথে ছিলেন। আফ্রিকার অন্যতম সেরা এই রেফারির প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে সোমালিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প অতীতে সোমালিয়া ও দেশটির জনগণ সম্পর্কে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। গত বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সোমালি অভিবাসীদের ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করে সমালোচনার মুখে পড়েন।
ওমর আরতানের ঘটনা বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতির সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোর সর্বশেষ সংযোজন। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে মেক্সিকোতে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। খেলোয়াড়রা কেবল ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেও পরে তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে। দলটির কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি শহরে অতিরিক্ত অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অভিবাসীদের ছাড়া ফুটবল কল্পনা করা যায় না। তারা খেলেন, কোচিং করান, স্টেডিয়ামে কাজ করেন, দর্শকসারি পূর্ণ করেন এবং বিশ্বকাপের মতো আয়োজনকে সফল করে তোলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইসিই বা অন্য কাউকে আমাদের কমিউনিটিতে ভয় ছড়াতে দেব না। বিশ্ব যখন আমাদের শহরে আসবে, তখন আমরা গর্বের সঙ্গে অভিবাসী প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াব।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেইর) ওমর আরতানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনটির উপ-পরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল বলেন, ‘কেবল জাতিগত পরিচয় বা জাতীয়তার কারণে কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা কোনো কোচ, রেফারি বা কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এটি আরও অগ্রহণযোগ্য।’
তিনি বলেন, ‘সোমালি নাগরিকরাও অন্যদের মতোই একই ধরনের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে কাউকে নিষিদ্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএইচএস জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা বা রেফারি হওয়া সত্ত্বেও সীমান্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর কর্মকর্তাদের হাতে থাকে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রবেশযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।’
চলতি বছরের শুরুতে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর আরতান বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগকে জীবনের অন্যতম বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘রেফারি হিসেবে কখনও হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না। লক্ষ্য ঠিক রাখতে হয়। বিশ্বকাপে পৌঁছানো সহজ ছিল না, কিন্তু আমি চেষ্টা চালিয়ে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে পৌঁছাতে চান, তাহলে সংগ্রাম চালিয়ে যেতেই হবে।’